কোভিড-১৯ এ সংক্রমণ ও মৃত্যু: তিন দফা কমার পর এক লাফে বেড়েছে
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা চলতি সপ্তাহে কিছুটা কমার পর একদিনের ব্যবধানেই তা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
করোনার পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ১২১ জন। মাত্র একদিন আগেই সোমবার এই সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০। অর্থাৎ আগের তুলনায় ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ বেড়েছে ৫০ হাজার।
অন্যদিকে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৫৬১ জনের। সোমবার এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৭৫ জন। এ ক্ষেত্রেও একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার মানুষের।
গতবছরের শেষদিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে মাত্র ৭ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চল। মহামারি হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই দুই কোটি ছাড়িয়েছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, সারাবিশ্বে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ১৯১ জনের দেহে।
মহামারিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৬ হাজার ৫৬১ জন। বিশ্বজুড়ে করোনার সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত ১৭ এপ্রিল। সেদিন ৮ হাজার ৪৯৪জন রোগী মারা গিয়েছিলেন প্রাণঘাতী এই রোগে।
করোনা থেকে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪১ হাজার ৯১৩ জন। সে হিসাবে বর্তমানে ৬৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের মৃদু বা বেশি মাত্রায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তার অর্ধেকেরও বেশির অবস্থান মাত্র চারটি দেশে। এ চারটি দেশ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ভারত।
পৃথিবীর চার ভাগের এক ভাগ (২৪ দশমিক ৭ শতাংশ) ভূমি নিয়ে গড়ে ওঠা এই চার দেশে করোনা শনাক্ত রোগীর পরিমাণ পুরো বিশ্বের ৫৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ এ। আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ লাখ ৫ হাজার ৯৫৭ জন।
মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ ১২ হাজার ৩৯৩ জন।
মৃত্যুর তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৯২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৯২ হাজার ৫২২ জন।
তবে মৃতের সংখ্যা কম হলেও সংক্রমণের তালিকায় ব্রাজিলের পরই দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতের অবস্থান। দেশটির ২৩ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ জন এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছেন।
পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে বেশি জায়গাজুড়ে থাকা ইউরেশিয়ান দেশ রাশিয়াতেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৯৯ জনের।
ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে। সেখানে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৭৩৭ জন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৪ জন।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫০৩ জনের শরীরে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজার ৪৭১ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৭২ জন।
ডিসেম্বরে চীনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। ওইদিন তিন জন করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই সমান্তরাল ছিল। কিন্তু এরপর থেকে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা।
