কোভিড অব্যবস্থাপনায় সহিংস বিক্ষোভের মুখে তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত, স্থগিত হলো সংসদ

কোভিড ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ নিয়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিচেম মেচিচিকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদ। একইসঙ্গে তিউনিসিয়ার সংসদ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগে রোববার রাস্তায় নামে দেশটির হাজার হাজার মানুষ। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে।
দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি কাইস সাইয়েদ।
তবে, রাষ্ট্রপতির এই পদক্ষেপকে বিরোধীরা নতুন অভ্যুত্থান হিসেবে দেখছেন।
নিজ ভবনে জরুরি নিরাপত্তা সভা শেষে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি সাইয়েদ বলেন, "সিদ্ধান্তগুলো আমরা নিয়েছি।" তিউনিসিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনার এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিচেম মেচিচিকে বরখাস্ত করার ঘটনা সামনে আসতেই উদযাপন শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
রাজধানী তিউনিস এবং অন্যান্য শহরে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা বিক্ষোভকারীরা 'দূর হও' শ্লোগানে সরব হন। তারা সংসদ বিলুপ্ত করার দাবিও জানান।
এদিকে, দেশটির সংসদের আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ২০১১ সালে তিউনিসিয় বিপ্লবের কেন্দ্রস্থল বোরগিবা অ্যাভিনিউয়ের আশেপাশের রাস্তাতেও অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
অন্যান্য বেশ কয়েকটি শহরে আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়াসহ অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সামরিক সতর্কবার্তা ও অভ্যুত্থানের শঙ্কা
সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে সামরিক শক্তির সহায়তায় আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্রপতি সাইয়েদ।
তিনি বলেন, "কেউ অস্ত্র ব্যবহার এবং বুলেট ছোড়ার পরিকল্পনা করলে আমি তাদের সতর্ক করে বলতে চাই যে, সশস্ত্র বাহিনীও বুলেটের মাধ্যমেই তার জবাব দিবে।"
তিনি বলেন, 'বিপদ ঘনিয়ে আসলে' সংসদ স্থগিত করার ক্ষমতা তাকে সংবিধান দিয়েছে।
তবে তিউনিসিয়ার পার্লামেন্ট স্পিকার র্যাচেড ঘানুচি বিষয়টিকে তিউনিসিয়ান বিপ্লব এবং সংবিধানের বিরুদ্ধে নতুন এক অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইনাহদা নেতা ঘানুচি বলেন, "আমরা মনে করি আমাদের দপ্তরগুলো এখনও সক্রিয় আছে এবং ইনাহদার সমর্থক ও তিউনিসিয়ার জনগণ বিপ্লবের জন্য লড়াই করবে।"
দশ বছর আগে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। তিউনিসিয়ান বিপ্লবের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্তের সূচনা ঘটে।
সূত্র: বিবিসি