বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র

দেড় মাস পর আবারও দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০.১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গতকাল রোববার (২২ ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে এই রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইএমএফের ফর্মুলা অনুযায়ী ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম৬) মানদণ্ড অনুসারে মোট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিপিএম-৫ অনুযায়ী মোট রিজার্ভের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল, মোট রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছোড়িয়েছে। পরে সন্ধ্যায় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ ১৮.৫৬ বিলিয়ন ডলার হবে।
এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪৪মিনিটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা গণমাধ্যমকে জানান, প্রথমে বলা সংখ্যাটিই আসলে সঠিক ছিল।
তিনি বলেন, 'মোট রেমিটেন্স এবং মোট রিজার্ভের পরিসংখ্যানের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তি হয়েছিল।'
এর আগে, ৬ নভেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছিল। তবে ধীরে ধীরে তা কমতে শুরু করে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ডলারপ্রতি ১২০ টাকার মূল্য নির্ধারণ ও বাজার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল ছিল।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমদানি বৃদ্ধির কারণে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। ব্যাংকগুলোকে রেমিট্যান্সের ডলার কিনতে সর্বোচ্চ ১২৭.৭০ টাকা খরচ করতে হয়েছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি থাকায় ডলারের পরিমাণ বেড়ে যায়। এটি ব্যাংকগুলোর নতুন এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে সহায়তা করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানিতে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল নেগেটিভ (ঋণাত্মক) ১০ শতাংশ।
একই সময়ে, রেমিট্যান্স ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় আর রপ্তানি বেড়েছে ৮ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গতি আরও বেড়েছে।