ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার ওপর গুরুত্বারোপ অর্থ উপদেষ্টার

ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমিয়ে এনে ব্যাংকগুলোকে চালু রাখা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (১২ আগস্ট) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "অর্থনীতিকে সচল করা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো আমার কাছে এখন সবচেয়ে অগ্রাধিকারের বিষয়। সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ভালো করার তুলনায় মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেব আমি।"
কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং খাদ্যপণ্যের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার, খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি খুলতে ব্যাংকগুলো যেন ডলার সংকটের অজুহাত না দেখাতে পারে, সেজন্য সমস্ত ব্যাংককে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "ব্যাংকগুলো সার আমদানির এলসি খুলছিল না, সেগুলো সব সমাধান করা হয়েছে। এটা আমি প্রথম দিনই বলে দিয়েছি। সার আমদানি, জ্বালানি আমদানি, কৃষি ও শিল্পের কাঁচামাল-কোনোকিছুর আমদানিই আটকাবে না। জীবনযাত্রা ও শিল্পের উৎপানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল পণ্যের আমদানি স্বাভাবিক থাকবে।"
ড. সালেহ উদ্দিন জানান, "এখন আমার ইমিডিয়েট (তাৎক্ষণিক) কাজ হবে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো। সেখানে অনেক অ্যানার্কি (নৈরাজ্য) হচ্ছে। ব্যাংকখাতে অস্থিরতা কমিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হবে।"
ব্যাংকখাতের অনিয়ম চিহ্নিত করতে বিভিন্ন সময় অর্থনীতিবিদরা ব্যাংকিং কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছেন। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যাংক কমিশন গঠন করবে কি-না, এমন প্রশ্নে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "আগে ব্যাংকগুলো চলুক। কমিশন গঠনের বিষয় পরে দেখা যাবে।"
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থ মন্ত্রণালয় কী কী পদক্ষেপ নেবে— জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, "মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যাংকের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এখানে খাদ্য মন্ত্রণালয় আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আছে। পণ্যের সরবরাহ, বাজার মনিটরিং ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা এসব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসবো।"
"মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াবো," যোগ করেন তিনি।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, "বাইরে থেকে সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক দেখে আমরা বলছি যে, বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এই সূচক নিয়ে মানুষের কোয়ালিটি অফ লাইফ (জীবনযাত্রার মান) পরিমাপ করা যায় না। মানুষের জীবনযাত্রার মান, স্বাচ্ছন্দ্য, চলাফেরা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ ভবিষ্যৎ যেন নিশ্চিত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেব। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, আয়ের সংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির চেষ্টা করব।"
"বিভিন্ন কারণে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি হচ্ছে। রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে আমি কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছি। এজন্য অবশ্য সময় লাগবে। তবে এটি দীর্ঘ সময় নয়, কয়েকদিন পরেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে," জানান তিনি।