সঠিক মান সনদের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রক্রিয়াজাত খাবার রপ্তানি করা যাচ্ছে না
আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরির অভাবে পণ্যের আন্তর্জাতিক মানের মান সনদ প্রদানের ব্যবস্থা নেই। ফলে দেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে ঢুকতে পারছে না। যেটুকু রপ্তানি হচ্ছে তা শুধুমাত্র এথনিক মার্কেটে। এজন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) সক্ষমতা বৃদ্ধি ও একটি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি গঠন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ৫২তম 'ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ডস ডে' বা বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই তেজগাঁওয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "বিভিন্ন পণ্যের ল্যাব টেস্টে প্রচুর টাকা বিদেশে খরচ করতে হয় দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের। যদি বিএসটিআইয়ের সক্ষমতা থাকতো তাহলে ল্যাব টেস্টের জন্য বিদেশ যেতে হতো না"।
তিনি বলেন, "বিশ্বব্যাপী কৃষিভিত্তিক পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমরা এথনিক মার্কেটের বাইরে যেতে পারছি না। কারণ আমাদের পণ্যের মান যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক মানের কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এখন বিএসটিআইকে আরও আধুনিক করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্রতিষ্ঠানটিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি তৈরি করতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন দরকার"।
এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, "এগ্রো বেইজড পণ্য নিয়ে বিশ্ববাজারে যাওয়ার জন্য বিএসটিআইয়ের বিশ্বমানের সার্টিফিকেশন জরুরি। তবে বিএসটিআই ইসলামিক দেশগুলোতে হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সার্টিফিকেশন প্রদানের কাজ করছে"।
তিনি বলেন, "আধুনিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ল্যাবরেটরি তৈরির জন্য আমরা একটা প্রকল্প নিতে পারি। এর জন্য প্রয়োজনে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বললে আমরা হয়তো সহযোগিতা পাবো। না পেলে নিজেদের টাকাতেই এটা করবো"।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, "এখন শুধু প্রবাসীদের জন্য পণ্য পাঠালে হবে না, মানসম্মত পণ্য নিয়ে বিশ্ববাজারে ফাইট করতে হবে, রপ্তানি প্রসারিত করতে হবে। আমরা রোজা, ঈদকেন্দ্রিক বিএসটিআই দেখতে চাই না। আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য কাজ করতে বিএসটিআইকে তৈরি হতে হবে"।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, "আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি তৈরি করতে পারলে কেমিকেল টেস্টে যে টাকা বাইরে যাচ্ছে তা যেমন বন্ধ করা যাবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে"।
তবে ভেজাল রোধে এবং পণ্যের মান বজায় রাখতে বিএসটিআইকে আরও বেশি ভূমিকা রাখার বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএসটিআইয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মো. নজরুল আনোয়ার।
