দাঁড়কাকের আক্রমণে ড্রোন ডেলিভারি সার্ভিস স্থগিত
দাঁড়কাকের আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাসাবাড়িতে পণ্য সরবরাহের একটি ড্রোন সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সার্চ জায়ান্ট গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট কর্তৃক পরিচালিত 'উইং' নামক এই কোম্পানিটি ২০১৯ সাল থেকে ক্যানবেরার বাসিন্দাদের জন্য কফি, ওষুধ এবং অফিসের সামগ্রী সরবরাহ করে আসছে।
কিন্তু সম্প্রতি এক দাঁড়কাক প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ডেলিভারিতে নিযুক্ত একটি ড্রোনকে চলন্ত অবস্থায় আক্রমণ করে বসে। ধারণা করা হয়, সে সময় কাকটি তার নিজের বাসা পাহারা দিচ্ছিল। ফলে গত সপ্তাহে 'উইং' ঘোষণা দেয়, আপাতত তারা ড্রোন সার্ভিস বন্ধ রাখবে।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এলো যখন করোনা মহামারিতে লকডাউনের ফলে ক্যানবেরায় ড্রোন ডেলিভারির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
এই ঘটনার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে এবং বেন রবার্টস নামক একজন স্থানীয় বাসিন্দা সেটি অনলাইনে পোস্ট করেছেন। বেন প্রতিদিন সকালে এই সার্ভিসের মাধ্যমে কফির অর্ডার দিয়ে থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম ক্যানবেরাকে টাইমসকে বেন বলেন, "হয়ত তারা এটিকে (ড্রোন) টার্মিনেটর বা এমন কিছু ভেবেছিল"।
এদিকে স্থানীয় গ্রাহকদের প্রতি এক বিবৃতিতে উইং জানিয়েছে, তারা এই এলাকার আশেপাশে এমন কিছু পাখির উপস্থিতি চিহ্নিত করেছে যাদের চলন্ত বস্তুর প্রতি ছোঁ বা আক্রমণের প্রবণতা রয়েছে।
তারা বলেন, "যদিও পাখির বাসা বাঁধার মৌসুমে এসব একেবারে সাধারণ ঘটনা; তবে আমরা পরিবেশের কোনরূপ ক্ষতির কারণ হবো না। আমাদের পরিষেবা পাখিদের জীবনাচরণের উপর যেন কোন প্রভাব না ফেলে সেটি নিশ্চিতে আমরা পক্ষীবিশারদের শরণাপন্ন হব"।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র আরও বলেছেন যে, দৈনিক অজস্র ড্রোন ডেলিভারির মধ্যে পাখির সাথে কোন কোনটির সংঘর্ষ নিতান্তই বিরল ঘটনা।
তিনি বলেন, কোন পাখির আমাদের ড্রোনের সাথে সরাসরি সংস্রব ঘটলেও, এগুলো এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যে আঘাতের পরেও আমরা নিরাপদে উড়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারব।
তবে দেশটির রাজধানীর উপকন্ঠে অবস্থিত কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে তাদের পরিষেবা স্থগিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
পাখিবিজ্ঞানী নীল হার্মেস এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, "দাঁড়কাকেরা স্বভাবে সাধারণত অনেক 'টেরিটোরিয়াল' হলেও তারা এর আগে কখনও ড্রোন আক্রমণ করেনি। তারা হয়তো কুকুরকে তাড়া করবে কিংবা তাদের বাসার আশেপাশে ঘটে যাওয়া কোন গতিবিধিতে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, কিন্তু ড্রোন আক্রমণ একেবারেই নতুন"।
এদিকে ইউএভি ট্রেইনিং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বৈমানিক এবং প্রশিক্ষক ওয়েইন কন্ডনের মতে, যেসব স্থানে পাখিদের বাসা আছে, সেখানে ড্রোন অপারেশন না চালানোই শ্রেয়তর।
"দিনশেষে আকাশটা তো তাদেরই, আমরাই বরং অতিথি। যদি আপনি দক্ষতার সাথে দ্রুত বিমান চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন তাহলে একদিকে যেমন আপনার এয়ারক্রাফট সুরক্ষিত থাকবে, তেমনি পাখিরাও কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না", বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত মাসেই অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে ৫ মাসের একটি শিশু মর্মান্তিকভাবে মারা যায়; একটি ম্যাগপাইকে তাড়াতে গিয়ে শিশুটির মা দুর্ঘটনাবশত তাকে কোল থেকে ফেলে দেন।
- সূত্র- বিজনেস ইনসাইডার
