বিশ্বকাপ জয়ের পর কোচের মুখের ট্যাটু আঁকার প্রতিশ্রুতি কুকুরেয়ার; ফুয়েন্তে বললেন, আমি এতটাও কুৎসিত নই
স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারলে নিজের শরীরে কোচের মুখের ট্যাটু আঁকবেন—এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্ক কুকুরেয়া। আজ বিশ্বকাপ জয়ের পর স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আশা করছেন যে, কুকুরেয়া তার দেওয়া কথা রাখবেন।
অতিরিক্ত সময়ের এক রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজেদের করে নেয় দে লা ফুয়েন্তের দল। আর এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দেশটি। এই সাফল্য স্প্যানিশ ফুটবলের সোনালী অধ্যায়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল; কেননা পুরুষ দলটি বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন এবং একই সাথে স্পেনের নারী দলটিও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই ফুল-ব্যাক কুকুরেয়া প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, স্পেন যদি ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারে তবে তিনি নিজের শরীরে কোচ দে লা ফুয়েন্তের মুখের একটি ট্যাটু করাবেন। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে যাওয়া এই ডিফেন্ডার ফাইনালে স্পেনের জয়ের পর সত্যিই শরীরে নতুন এই ট্যাটু আঁকাবেন বলে বিশ্বাস করেন স্প্যানিশ কোচ।
দলের অন্য কেউও একই রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—এমন ইঙ্গিত দিয়ে কোচ হেসে বলেন, 'তারা হয়তো ভুল করে এমন কথা দিয়ে ফেলেছিল, কিন্তু তারা তো কথার মানুষ। আমি নিশ্চিত তারা তাদের দেওয়া কথা রাখবে। তাছাড়া আমি তো আর দেখতে খুব একটা কুৎসিত নই! শরীরের এমন কোনো অংশ তারা বেছে নিতে পারে যা সহজে সবার নজরে পড়ে না।' তিনি আরও যোগ করেন, 'মুখে কোনো কথা বললে সেটি রক্ষা করা উচিত।'
ক্রীড়াবিশ্বে এ ধরনের ঘটনার নজির অবশ্য আগেও রয়েছে। ২০২৩ সালের সিক্স নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর আয়ারল্যান্ডের রাগবি খেলোয়াড় ম্যাক হ্যানসেন নিজের শরীরে কোচ অ্যান্ডি ফারেলের ছবি ট্যাটু করিয়েছিলেন।
২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্পেনের ফুটবলকে আবারও বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে নিয়ে এসেছেন খুব একটা আলোচনায় না থাকা কোচ দে লা ফুয়েন্তে। এর আগে দেশের বয়সভিত্তিক ও তরুণ দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে একঝাঁক নতুন প্রতিভাকে মূল দলে তুলে এনেছেন তিনি। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলগতভাবে খেলতে পারাই ছিল স্পেনের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সাফল্যের রহস্য উন্মোচন করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, 'আমরা আজ ঠিক যেখানে পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, সেখানেই আছি। এমন এক চমৎকার জাতীয় দল আর অসাধারণ সব খেলোয়াড়দের নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, সত্যিকারের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক সহযাত্রী পাওয়ার ওপর, যারা সততা ও আদর্শ মেনে চলেন।'
তিনি আরও বলেন, 'কোচ হিসেবে আমাদের একমাত্র কৃতিত্ব হলো, আমরা এমন কিছু ভালো মানুষকে খুঁজে বের করতে পেরেছি, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের কল্যাণকে সবসময় প্রাধান্য দেয়।'
