ফাইনালে হেরে অশ্রুসিক্ত মেসি, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা জয় করে স্পেন। এই পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ কি না, তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জানান, আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই তারকা আর খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে তার সাথে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি।
স্কালোনি বলেন, 'আমি আশা করি সবাই তার (মেসি) জন্য গর্ববোধ করবে। তিনি যা অর্জন করেছেন তার জন্য সবাই তাকে সম্মান করবে, কারণ তিনি ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়।'
ম্যাচ শেষে মেসি বা আর্জেন্টিনার অন্য কোনো খেলোয়াড় সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেননি।
টানা দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের মাঝে ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।
বার্সেলোনা এবং পিএসজির হয়ে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ১২টি লিগ শিরোপা জয়ের পর, তিন বছর আগে মেসি যখন ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে আমেরিকার এমএলএসে (মেজর লিগ সকার) যোগ দেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো ফ্লোরিডায় অবসর জীবন কাটাতেই গেছেন।
কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট দিয়ে আর্জেন্টিনাকে আবারও ফাইনালে তোলেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ, যা বিশ্ব রেকর্ড ছিল। তবে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুটি গোল করে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ২২ গোল নিয়ে মেসিকে ছাড়িয়ে যান।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শকের বড় অংশই মেসির দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের সাক্ষী হতে এসেছিলেন। কিন্তু হারের পর অশ্রুসিক্ত নয়নে মেসিকে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়।
স্প্যানিশ গোলদাতা ফেরান তোরেস বলেন, 'বিপক্ষে যখন মেসি থাকে, তখন স্নায়বিক চাপ কাজ করবেই। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের নিজেদের খেলার ওপরই ভরসা রেখেছিলাম। আমরা আবারও আমাদের ফুটবলশৈলী দেখাতে সক্ষম হয়েছি।'
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানান, তাদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল মেসিকে আটকে রাখা। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রথম পরিকল্পনাই ছিল মেসিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা।'
পুরো ম্যাচে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তারা ম্যাচে ২০টি শট নিলেও আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছে মাত্র দুটি। পাসের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে ছিল স্পেন; তাদের ৮৪৫টি পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা দিতে পেরেছে ৪৩৩টি।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম মেসির জন্য আগেও যন্ত্রণার কারণ হয়েছে। ২০১৬ সালে এই মাঠেই চিলির কাছে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে তিনি অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে ৪৭ দিন পর সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে এসে দলকে তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে স্পেনের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। পরে রানার্সআপ মেডেল নিতে যাওয়ার সময় স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা 'গার্ড অব অনার' দিলেও মেসির চোখেমুখে ছিল কেবল শূন্যতা।
এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে একই সাথে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। সোনালি আবহের মাঝ দিয়ে যখন স্প্যানিশরা উল্লাস করছিলেন, তখন মলিন মুখে মাঠ ছাড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা।
