ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নারাজ বাংলাদেশ, আইসিসির সঙ্গে বৈঠক অমীমাংসিত
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। তবে ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যকার অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলতে বিসিবির আপত্তির মুখে দুই পক্ষের আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক শেষে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে 'গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাবে'।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর।
বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, 'আলোচনাকালে বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বোর্ড একই সঙ্গে বাংলাদেশ দল, সমর্থক, সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগের বিষয়টিও আইসিসিকে অবহিত করেছে।'
বৈঠকটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও পেশাদার পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে বিসিবি। সেখানে লজিস্টিক জটিলতা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশকে অন্য কোনো গ্রুপে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ 'সি' গ্রুপে রয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে ইংল্যান্ড, নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইতালি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বৈঠকে বিসিবির পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি শাকাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।
আইসিসির প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইভেন্টস ও করপোরেট কমিউনিকেশন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা এবং ইনটেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় গৌরব সাক্সেনা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন, তবে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
ভারতে ম্যাচ খেলা নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত হয় যখন বিসিসিআই (ভারতের ক্রিকেট বোর্ড) আইপিএল ২০২৬-এর আসর থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতিকে এর নেপথ্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুস্তাফিজকে সরিয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। এরপরই বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বেশ কয়েকবার বৈঠক হলেও বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এদিকে, একটি স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার তৈরি করা ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দলগুলোর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি 'মাঝারি-উচ্চ' পর্যায়ের। তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, দলগুলোর ওপর সরাসরি কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপ শুরু হতে অল্প সময় বাকি থাকায় শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের দাবি মেনে ভেন্যু পরিবর্তন করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
