Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Thursday
March 12, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
THURSDAY, MARCH 12, 2026
সমাজে চলমান নারীবিদ্বেষ: টার্গেটের শিকার হলেন জাইমা রহমানও

মতামত

শাহানা হুদা রঞ্জনা
22 February, 2026, 12:00 pm
Last modified: 22 February, 2026, 12:15 pm

Related News

  • জামায়াত আমিরের নারীবিদ্বেষী পোস্টের ৯ ঘণ্টা পর আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক?: মাহদী আমিন
  • সমাবেশে দুই বক্তার ‘আপত্তিকর’ শব্দচয়নের জন্য দুঃখপ্রকাশ হেফাজতের
  • নারী কেন নারীবিদ্বেষী হন?
  • তানজিম সাকিব একা, নাকি সমাজে এই মতের মানুষ আরো আছেন! 
  • 'স্ত্রী চাকরি করলে সমাজ নষ্ট হয়': নারীবিদ্বেষের গভীরে অনুসন্ধান

সমাজে চলমান নারীবিদ্বেষ: টার্গেটের শিকার হলেন জাইমা রহমানও

শাহানা হুদা রঞ্জনা
22 February, 2026, 12:00 pm
Last modified: 22 February, 2026, 12:15 pm
শাহানা হুদা রঞ্জনা। স্কেচ: টিবিএস

যে বা যারা প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার মেয়ে জাইমা রহমানের একটি ভিডিও শেয়ার করে, মেয়েটিকে অপমান করার চেষ্টা করছে বা প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ নষ্ট করার চাইছে, তারা খুব ভুল পথ বেছে নিয়েছে। কারণ নারীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িকভাবে উদ্দেশ্য সফল হয় বটে, কিন্তু ভালো কিছু অর্জন করা যায় না, সমাজে ও রাজনীতিতে এটা প্রমাণিত। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নেওয়ার দু'দিন পরই তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যেখানে জাইমার মতো একজনকে বন্ধুদের সাথে নাচ-গান ও আড্ডা দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি সঠিক নাকি ভুয়া, তা নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওটি বিভিন্ন ভুয়া ফেসবুক পাতা থেকে শেয়ার করা হয়েছে এবং পোস্টগুলোতে জাইমা রহমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেকে অশালীন মন্তব্য করেছে। তবে অনেকেই এসব কাজের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

বাংলাদেশের সমাজে নারীকে ছোট ও হেয় করার জন্য নানাধরণের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর যাবৎ যোগ হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার। বিশেষ করে যে-সব নারী সফল, আলোচিত, গুরুত্বপূর্ণ, স্টার অথবা যার সামাজিক উপস্থিতি শক্তিশালী এবং মানুষ যাকে ভালোবাসতে শুরু করেছেন, সেই নারীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। 

নারীকে টার্গেট করার মাধ্যম হিসেবে তার পোশাক বা চরিত্রকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। জাইমা রহমানও এর ব্যতিক্রম নন। রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটা সহজ উপায় নারীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা। অনেকেই মনেকরে এতে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবং জাতীয় নির্বাচনের সময় নারী প্রার্থীদের ইমেজ নষ্ট করার অনেক ঘটনা সামনে এসেছে।

শুধু জাইমা রহমান নন, এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাতনি, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনুসের মেয়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণরের মেয়েকে নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে একই ধরনের 'অবমাননাকর' প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। অথচ তাদের কেউই রাজনীতিতে সক্রিয় নন। তারপরও তাদের ব্যক্তিগত জীবনকে টার্গেট করা হয়েছে, হেনস্তা করা হয়েছে জনসম্মুখে।

পাশ্চাত্যে বড় হওয়া ও সেই দেশের শিক্ষায় শিক্ষিত একজন ব্যারিস্টারের আনন্দ উদ্‌যাপনের ভিডিও ছড়িয়ে নিজেদের ক'পমন্ডুকতার পরিচয় দিয়েছে একশ্রেণির মানুষ। জাইমা একজন নারী এবং ইতোমধ্যে তিনি একটা পজিটিভ ইমেজ তৈরি করতে পেরেছেন, এটা অনেকের সহ্য হচ্ছে না। 

পরিবারের সাথে দেশে আসার দিন থেকে এখন পর্যন্ত লক্ষ করছি তার চালচলন, আচার আচরণ খুব শালীন। বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে চলার, কথা বলার, পোশাক পরার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বাবার জন্য নির্বাচনি প্রচারণাও চালিয়েছেন দেশের মানুষের পছন্দের কথা মনে রেখে। 

বিদেশে বড় হওয়া একজন তরুণী কবে, কোথায় তার বন্ধুদের সাথে নেচে গেয়ে পার্টি করেছেন, সেই ছবি কেন এখন তুলে আনতে হলো? বাংলাদেশের অনেক তরুণ-তরুণীও এখন এভাবেই উৎসবে অংশ নেয়। এরা তাদের জীবন নিজেদের মতো করে চালিয়ে নিতে পছন্দ করে। এই জেনারেশনের অনেককেই দেখেছি তারা তাদের মতো চলে। সমাজের কিছু নিয়ম তারা গ্রহণ করে, কিছু করে না। সেখানে এই "সব গেল সব গেল" বলে শোরগোল তোলা কেন?

প্রাচীন রোমের দার্শনিক মার্কাস টুলিয়াস সিসেরো বলেছেন, গ্রিক দার্শনিকরা নারীবিদ্বেষের কারণ হিসেবে 'গাইনোফোবিয়া' বা নারীদের প্রতি এক ধরনের ভয়কে বিবেচনা করতেন। সেই ভয় এখনো সমাজে বর্তমান। পুরুষদের যে অংশ নারীকে ঠেকিয়ে রাখতে চায়, তারা আদতে নারীর উত্থানকে ভয় পায়। প্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত, উদার, স্বাধীন, আত্মনির্ভরশীল এবং কাজ করে খেতে পারেন যে নারী, তাকে আমাদের সমাজে সবসময় ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। এই প্রবণতা এখন বেড়েছে। গ্রিক সাহিত্যে নারীবিদ্বেষকে একটি রোগ ও একটি অসামাজিক অবস্থা হিসাবে বিবেচনা করা হতো। 

নারীবাদী লেখক আন্দ্রেয়া ডোরকিন মনেকরতেন, নারী বিদ্বেষীরা শুধু ক্ষমতাহীন নারীদেরই ভালো হিসেবে দেখে। পুরুষদের ক্ষেত্রে একইভাবে বিচার করা হয় না। এমনকি নারীরা যদি যথেষ্ট "ভালো" হয় অর্থাৎ বাধ্য বা জড় পদার্থের মতো হয়, তাহলে তাদের পূজা করা যেতে পারে বা পুরুষের চাইতেও শ্রেষ্ঠ বলা যেতে পারে। নারী বিদ্বেষ কেবল ব্যক্তিগত ঘৃণা নয়, বরং একটি কাঠামোগত এবং সাংস্কৃতিক হাতিয়ার। যে হাতিয়ার পর্নোগ্রাফি, যৌন সহিংসতা এবং পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের মাধ্যমে নারীদের অবদমিত করে। তাঁর মতে, নারীবিদ্বেষ নারীদের শরীরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে এবং সমাজে যৌন বৈষম্য ও হিংসা টিকিয়ে রাখে। 

বাংলাদেশে কি পার্টি করা নিষিদ্ধ বা কোন পাপ কাজ? একটা সময় ঢাকার শহুরে জীবনে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সমাজেও বাসার ছাদে, বড় রুমে, বাগানে এধরণের নাচ-গান, হৈ-হুল্লোড় হতো। কনসার্ট হতো নিয়মিত। ধনীদের এলাকায় এধরণের অনুষ্ঠান এখন আরো বেশি হয়। কোনধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না হলে, এগুলো অনুষ্ঠান নিয়ে কথা বলার কোন মানে হয় না। 

জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো প্রসঙ্গে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো মাহিন সুলতান বলেছেন, "এই মেয়েটার প্রাইভেসি খর্ব হচ্ছে, ও পার্টি করতে চায় করবে, বন্ধুদের সাথে বেড়াতে চায় বেড়াবে। এটা কারও দেখার বিষয় না।" (বিবিসি বাংলা) 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেছেন, "কোনো কর্তৃপক্ষকে আপনি যদি ঘায়েল করতে চান তাহলে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে নারীদের অপমান করা, হেনস্তা বা অপদস্থ করা। যেকোনো ক্ষেত্রেই তা হতে পারে, বিশেষ করে এই ধরনের নামী বা অবস্থাবান লোকদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি দেখা যায়"। (বিবিসি বাংলা) 

কেন মানুষ এই আচরণ করে? করে এজন্য যে প্রতিষ্ঠিত মানুষকে হেয় করতে চাইলে তাদের মেয়ে সন্তান বা পরিবারের নারী সদস্যকে সামনে টেনে আনতে পারলে আঘাত করাটা সুবিধাজনক হয়। বলা যায় যে এই নেতা বা নেত্রীর পরিবারের নারী সদস্য "সুস্থ জীবনধারা" অনুসরণ করছেন না। তাহলে কীভাবে এই নেতা/নেত্রীর হাতে দেশে ধর্ম ও সুস্থ জীবনযাপন নিরাপদ থাকবে? 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস গণমাধ্যমে বলেছেন, "জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। তাকে লক্ষ্যবস্তু করে সামনে এনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর মধ্য দিয়ে তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। একভাবে বলতে গেলে এটা খুব সহজ অস্ত্র। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই ধরনের অস্ত্র কখনও কখনও খুব কার্যকর হয়ে ওঠে।" 

সব দলেই এরকম হাজারো নারীবিদ্বেষী আছে, যারা একজন নারীকে টার্গেট করে তার পোশাক বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মনেকরে বিরাট একটা কাজ করেছে। এইবার তাদের প্রতিপক্ষ শেষ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তারা ওই নারীর ব্যক্তিগত জীবন ও ভাবমূর্তির ক্ষতি নিয়ে কিছুই ভাবে না।

সবসময় পুরুষই নারীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ায়, তা নয়। নারীও অন্য নারীকে হেয় প্রতিপন্ন, গালাগালি, মারামারি সবই করছে। এরকমটা হয় কারণ, নারীর মধ্যেও নারী বিদ্বেষ বা মিসোজিনি কাজ করে। নারী বিদ্বেষ বলতে বোঝায় নারীর প্রতি ঘৃণা বা বিরাগ। যেখানে নারীকে শুধু নারী হওয়ার কারণে ঘৃণা করা, কম যোগ্য মনে করা ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। 

নারীবিদ্বেষ ব্যাপকভাবে চর্চা হয়ে আসছে এদেশের শিল্প, সাহিত্য, সমাজ কাঠামো, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং বিভিন্ন ধর্ম ব্যবসায়ীদের দ্বারা। যে সমাজ সভ্য ও যথার্থ শিক্ষিত হয়েছে তারা এর থেকে বেরিয়ে এসেছে। যারা পারেনি, তারা সেই তিমিরেই রয়ে গেছে, বরং এই বিদ্বেষ আরো প্রোথিত হয়েছে। 

যেমন বাংলাদেশে নারীর প্রতি বেড়েছে বিদ্বেষ ও বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা। নারী অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, প্রশাসনিক বা কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে গেলে, সেই নারীর উপর বিদ্বেষ বাড়ে। কোন নারী স্বাধীনচেতা হলে বা স্বাধীনভাবে, স্বাধীন পোষাক পরে ঘুরে বেড়ালে, পুরুষের পাশাপাশি অন্য নারীও আপত্তি করে, অবমাননা করে। 

নারী হয়েও নারীর উপর মর‌্যাল পুলিশিং করার অন্যতম কারণ হচ্ছে নারীর ভেতরে জমে থাকা হিংসা, অপ্রাপ্তি এবং ভয়। নারী যে কারণে অন্য নারীকে পোশাকের জন্য হেয় করে সেটার মূল কারণ হলো নারীবিদ্বেষ (ইন্টার্নালাইজড মিসজিনি)। হিংসা ও অপ্রাপ্তির জায়গাটা হচ্ছে, সে কেন ওই তরুণীর মতো স্বাধীন জীবন কাটাতে পারছে না, কেন যেমন ইচ্ছা তেমন পোশাক পরতে পারছে না? 

আর ভয়টা হচ্ছে নিজের স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে। এধরণের নারীরা আশঙ্কা করে তাদের ছেলে, স্বামী ও পরিচিত পুরুষরা আধুনিক ও চমৎকার পোশাক পরা মেয়েদের ফাঁদে পড়তে পারে এবং পথভ্রষ্টও হতে পারে। এই বিষয়ের উপর ২০২২ করা একটা গবেষণা বলছে আমাদের দেশে ইন্টার্নালাইজড মিসজিনি বাড়ছে। পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে নারী নারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে।

সেই গবেষণা বলছে, শতকরা ৭৪ জন উত্তরদাতা মনে করেন, 'মন্দ' মেয়েরা, 'মন্দ' ছেলেদের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। মন্দ মেয়ের মতো আচরণ সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত। কারণ মন্দ মেয়ে অন্য ছেলেমেয়েদের নষ্ট করে ফেলতে পারে বলে মনেকরে শতকরা ৭৯ জন উত্তরদাতা। উত্তরদাতাদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই আছে। 

তাই যারা মন্দ মেয়ের মতো আচরণ করে, তাদের ভালো পথে আনার জন্য তাদের হেয় করা, মন্দ কথা বলা ও অপমানজনক আচরণ করা সমাজের জন্য মঙ্গল বলে মনেকরে শতকরা ৪৪ জন উত্তরদাতা। 

শতকরা ৮১ জন উত্তরদাতা মনেকরে, যে মেয়েরা খোলামেলা পোশাক পরেন, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও মেলামেশা করেন, নিজের মতো করে আনন্দ করেন, মনের ভাব প্রকাশ করেন, সেই মেয়েদের নানাভাবে হেয় করা ও তাদের সাথে অপমানজনক আচরণ করা অপরাধ নয়। এই মতামত দাতাদের মধ্যে শতকরা ৩৯ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ। 

যারা জনপ্রতিনিধি বা জনপ্রিয় ব্যক্তি তাদের সমালোচনা হবেই কিন্তু অনেক সময়ই তা সীমা ছাড়িয়ে যায়। সমালোচনা কাজের গণ্ডি পেরিয়ে চলে যায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে, এবং নারীকে আক্রমণের কেন্দ্রে আনা হয়। জুলাই আন্দোলনের পরেও দেখেছি একই অবস্থা। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে নারীরা সামনের সারিতে থাকলেও তা শেষ হয়ে যাওয়ার পর অভ্যুত্থানের সক্রিয় নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা একশ্রেণির মানুষকে।

বাংলাদেশি সমাজের একটা লিবারেল চেহারা ছিল। কিন্তু ক্রমেই বাংলাদেশের মানুষের মনে মৌলবাদী চিন্তা ও নারী বিদ্বেষ বাড়ছে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোই কোন না কোনোভাবে এর জন্য দায়ী। যারা জাইমা রহমানের সমালোচনা বা তাকে বিদ্রুপ করছেন, তারা নিশ্চয়ই কোন না কোনোভাবে বোঝাতে চাইছেন পার্টিতে গেলে, বন্ধুদের সাথে আনন্দ করলে সেই মেয়ে মন্দ। এধরণের অসুস্থ চিন্তা থেকে বের হতে না পারলে, মর‌্যাল পুলিশিং বন্ধ না করলে, সুযোগ মতো কোন নারীকে অপমান করলে বাংলাদেশ একটি বর্বর দেশে পরিণত হবে।

খ্রিষ্টের জন্মের ৮০০ বছর আগে যাজ্ঞবল্ক্য বলেছিলেন:

তোমার গভীর অন্তরের কামনা যা, তুমি তাই;

তোমার কামনা যা, তোমার ইচ্ছাও তাই;

তোমার ইচ্ছা যা, তেমনই তোমার কর্ম;

তোমার কর্ম যা, সেটাই তোমার নিয়তি।"

বৃহদারণ্যক উপনিষদ ৪.৪:৫-৬. [২৩] (সূত্র: গবেষক সিরাজুল হোসেন)

এভাবেই নারীদের হটিয়ে দেয়া হয় সামনের সারি থেকে, সক্রিয় রাজনীতির মাঠেও নারীদের পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়। সরিয়ে দেয়ার এই মানসিকতাই কাজ করে একজন সফল নারী বা কন্যার বিরুদ্ধে। আমরা এ থেকে মুক্ত হতে চাই। কোন পরিবারের বা কোন দলের, কোন গোত্রের বা ধর্মের নারীকে হেয় করা হচ্ছে এটা মূল বিচার্য নয়। মূল হচ্ছে সবাইকে মানে নারী-পুরুষ সবাইকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে। 


লেখক: যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও কলাম লেখক


বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।

Related Topics

টপ নিউজ

নারীবিদ্বেষ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • জামায়াতে ইসলামী ও শফিকুর রহমানের বিভিন্ন পোস্টের স্ক্রিনশট। কোলাজ: টিবিএস
    শফিকুর রহমান: এক স্বঘোষিত বিরোধী দলীয় নেতার অদ্ভুত কাহিনি
  • ফ্রান্সের প্যারিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা বাম থেকে- স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: গেটি/ ভায়া দ্য নিউ রিপাবলিক
    কুশনার, উইটকফ দুজনেই নির্বোধ, তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প
  • জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন সীমা নির্ধারণ, বিভাগীয় শহরে বিক্রি ১৫% কমানোর নির্দেশ
    জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন সীমা নির্ধারণ, বিভাগীয় শহরে বিক্রি ১৫% কমানোর নির্দেশ
  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নির্মম বোমাবর্ষণ চলছেই, ২০ বছরে ভিয়েতনামে ফেলা হয় ৭৫ লাখ টন
  • বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। ফাইল ছবি: বাসস
    '২০৪২ সালেও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকবেন' বক্তব্য, জয়নুল আবদিনকে সতর্ক করল বিএনপি
  • মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর গত ৭ মার্চ ওমানের মাস্কাট উপকূলে নোঙর করে আছে ‘লুওজিয়াশান’ তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি: বেনোয়া তেসিয়ের/রয়টার্স
    যুদ্ধ 'শিগগিরই' শেষ হবে, ইরানে হামলা করার মতো 'কার্যত আর কিছুই বাকি নেই': ট্রাম্প

Related News

  • জামায়াত আমিরের নারীবিদ্বেষী পোস্টের ৯ ঘণ্টা পর আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক?: মাহদী আমিন
  • সমাবেশে দুই বক্তার ‘আপত্তিকর’ শব্দচয়নের জন্য দুঃখপ্রকাশ হেফাজতের
  • নারী কেন নারীবিদ্বেষী হন?
  • তানজিম সাকিব একা, নাকি সমাজে এই মতের মানুষ আরো আছেন! 
  • 'স্ত্রী চাকরি করলে সমাজ নষ্ট হয়': নারীবিদ্বেষের গভীরে অনুসন্ধান

Most Read

1
জামায়াতে ইসলামী ও শফিকুর রহমানের বিভিন্ন পোস্টের স্ক্রিনশট। কোলাজ: টিবিএস
মতামত

শফিকুর রহমান: এক স্বঘোষিত বিরোধী দলীয় নেতার অদ্ভুত কাহিনি

2
ফ্রান্সের প্যারিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টা বাম থেকে- স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: গেটি/ ভায়া দ্য নিউ রিপাবলিক
আন্তর্জাতিক

কুশনার, উইটকফ দুজনেই নির্বোধ, তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প

3
জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন সীমা নির্ধারণ, বিভাগীয় শহরে বিক্রি ১৫% কমানোর নির্দেশ
বাংলাদেশ

জ্বালানি তেল বিক্রিতে নতুন সীমা নির্ধারণ, বিভাগীয় শহরে বিক্রি ১৫% কমানোর নির্দেশ

4
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
ফিচার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নির্মম বোমাবর্ষণ চলছেই, ২০ বছরে ভিয়েতনামে ফেলা হয় ৭৫ লাখ টন

5
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। ফাইল ছবি: বাসস
বাংলাদেশ

'২০৪২ সালেও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকবেন' বক্তব্য, জয়নুল আবদিনকে সতর্ক করল বিএনপি

6
মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর গত ৭ মার্চ ওমানের মাস্কাট উপকূলে নোঙর করে আছে ‘লুওজিয়াশান’ তেলবাহী ট্যাংকার। ছবি: বেনোয়া তেসিয়ের/রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ 'শিগগিরই' শেষ হবে, ইরানে হামলা করার মতো 'কার্যত আর কিছুই বাকি নেই': ট্রাম্প

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net