জামায়াত কি তাহলে ইসলামের ‘নরম’ ভাষ্যের দিকে ঝুঁকছে: ড. সাব্বির আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদের বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখন আর আগের মতো কড়াকড়ি ইসলামী শাসনব্যবস্থার কথা বলছে না। বরং এর পরিবর্তে তারা তুলনামূলকভাবে নরম ও মূল বা সারবস্তুভিত্তিক ইসলামী ভাষ্যের ওপর জোর দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী যে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে, তাতে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা গেছে।
ড. সাব্বির আহমেদের মতে, এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলমীর একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস।
"এই ইশতেহারে দলটির ভাবমূর্তি আধুনিক করার এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর একটা প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়', দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন তিনি।
ড. সাব্বির আহমেদের মতে, ইশতেহারে সরাসরি বা জোরালোভাবে 'শরিয়াহ আইন' আরোপের কথা বলা হয়নি। বরং ইসলামের মূল শিক্ষা—যেমন সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবিক মর্যাদা—এই বিষয়গুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ধারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের রাজনৈতিক ইসলামের চর্চার সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ইসলামী দলগুলো শরিয়াভিত্তিক আইনি কাঠামোর চেয়ে ধর্মের নৈতিক ও মানবিক দিককে বেশি গুরুত্ব দেয়। জামায়াতও কৌশলে সেই পথ অনুসরণ করছে।'
ড. আহমেদ ব্যাখ্যা করেন, এই পরিবর্তন 'মালয়েশিয়ান এক্সপেরিমেন্ট'-এর প্রতিফলন, যেখানে ইসলামী দলগুলো এটা বুঝতে পেরেছিল যে শুধু ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে ভোট পাওয়া সম্ভব না।
তিনি বলেন, 'তারা বুঝেতে পেরেছিল যে নির্বাচনে জয়ী হতে হলে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার কথা বলতে হবে, শুধু কট্টর বক্তব্যের ওপর ভরসা করলে কাজ হবে না। যখন তারা জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেয়, তখনই ভালো ফল পায়। জামায়াতও এখন সেই পথেই হাঁটছে।'
