অক্টোবরের মধ্যেই জিয়াউল আহসানের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার শেষের আশা রাষ্ট্রপক্ষের
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এনএসআই ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারিক কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার ১৩তম সাক্ষী ও বরিশাল র্যাব-৮ এর তৎকালীন উপ-অধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাব্বির রহমানের জেরা সম্পন্ন হয়। জেরা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সর্বশেষ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে।
তিনি জানান, এদিন জব্দ তালিকার একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং পরবর্তী ধার্য তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সাক্ষ্য দিতে পারেন।
কবে নাগাদ মামলার রায় হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, 'কবে নাগাদ জাজমেন্ট হবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের। এটি যদি আমি বলে দিই, তবে তা সরাসরি আদালত অবমাননা হবে। তবে আমরা আশা করছি, স্বাভাবিক গতিতে চললে অক্টোবরের মধ্যে উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'
অভিযোগ প্রমাণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মিজানুল ইসলাম বলেন, 'এই মামলায় আমরা যেসব দালিলিক, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছি, তাতে আমাদের মনে হয়েছে অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ আমরা দিতে পেরেছি। শুধুমাত্র আলকাস মল্লিক নামের এক মাঝির অপহরণ ছাড়া প্রতিটি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আমরা উপস্থাপন করেছি। আর এই সাক্ষীরা কেউ বাইরের নন, তার বাহিনীরই লোক।'
১৩তম সাক্ষী মেজর সাব্বিরের জেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেরায় আসামিপক্ষ সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও রাষ্ট্রপক্ষের দৃষ্টিতে সাক্ষীর গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য উঠে আসেনি।
অন্যদিকে, প্রসিকিউশনের দাবি খণ্ডন করে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো কোনো গ্রহণযোগ্য সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি।
আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, 'এই জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে যে মার্ডারের মামলা নিয়ে আসা হয়েছে, তৎকালীন পত্র-পত্রিকা ও রিপোর্টে যে নামগুলো ছিল, সেখানে কোথাও জিয়াউল আহসানের নাম নেই। যারা এসব করেছে, গুম কমিশন তাদের ডেকে নিয়ে বলছে—আপনারা হয় সাক্ষী হন, নয়তো আপনাদের আসামি করা হবে।'
সাক্ষীদের প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, 'এখানে মূলত জিয়াউল আহসানকে টার্গেট করা হয়েছে।'
গুম সংক্রান্ত অন্যান্য মামলা স্থবির হয়ে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, 'অন্য গুমের মামলা থেমে আছে, এ কথার সাথে আমরা একমত নই। আপাতদৃষ্টিতে একটি মামলা চললে অন্য মামলার গতি কিছুটা শ্লথ মনে হতে পারে। তবে আমাদের তিন-চারটি মামলা প্রায় যুক্তিতর্কের পর্যায়ে চলে গেছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেই সেগুলো এগিয়ে নেওয়া যাবে।'
