গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার শীর্ষ ধনী এখন টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কারের মধ্যে এশিয়ার শীর্ষ ধনীর মুকুট এখন বাইটড্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইমিংয়ের মাথায়। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১০৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি ভারতীয় বিলিয়নেয়ার গৌতম আদানিকে টপকে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ঝাং ইমিংয়ের সম্পদ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় আট গুণ। ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস এবং টি রো প্রাইসের মতো বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ মূল্যায়নের পর এই মাসে তাঁর সম্পদের পরিমাণ আরও ১২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়।
এর আগে জুন মাসে গৌতম আদানির সম্পদ ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও, সম্প্রতি এমএসসিআই ইনডেক্সে শেয়ারের রদবদল এবং তেলের দাম ও বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধির কারণে শেয়ার বাজারে দরপতনের ফলে তাঁর সম্পদের পরিমাণ কমেছে।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকের মূল কোম্পানি 'বাইটড্যান্স' গড়ে তুলেই মূলত ঝাং ইমিং এই বিশাল সাম্রাজ্য তৈরি করেছেন। তবে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি আগ্রাসীভাবে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ শুরু করেন। বাইটড্যান্সের তৈরি 'দুবাউ' চ্যাটবট এবং 'সিড্যান্স' ভিডিও জেনারেশন টুল এখন প্রযুক্তি বাজারে বেশ জনপ্রিয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ঝাং ইমিংয়ের এই উত্থান প্রমাণ করে যে, এআই বিপ্লব এখন প্রথাগত শিল্পখাতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গৌতম আদানির জ্বালানি ও রিটেইল সাম্রাজ্য কিংবা মুকেশ আম্বানির কনগ্লোমারেটকেও এখন টক্কর দিচ্ছে প্রযুক্তিভিত্তিক এআই ব্যবসা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জাই সু বলেন, 'ঝাং সবসময়ই তার লক্ষ্যের ব্যাপারে অবিচল ছিলেন এবং এআই খাতে বিনিয়োগেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।'
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটককে নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কঠোর নজরদারির মধ্যেও ঝাং ইমিং এআই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইটড্যান্সের কাছে যে বিপুল পরিমাণ সোশ্যাল মিডিয়া ডেটা রয়েছে, তা ভবিষ্যতে এআই মডেল উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
টিকটকের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও বাইটড্যান্সের এআই ব্যবসার প্রবৃদ্ধি তাঁকে আগেই চীনের শীর্ষ ধনী বানিয়েছিল। তবে বর্তমানে এআই সংশ্লিষ্ট ব্যবসার মাধ্যমে যেভাবে তিনি সম্পদ বাড়াচ্ছেন, তা এশিয়ার বিলিয়নেয়ারদের র্যাংকিয়ে এক বড় পরিবর্তন আনছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাল্লা দিতে চীন সরকারও বর্তমানে এআই প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, যা ঝাং ইমিংয়ের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সাফল্যের পথকে আরও মসৃণ করেছে।
প্রসঙ্গত, বাইটড্যান্স একটি প্রাইভেট কোম্পানি হওয়ায় ব্লুমবার্গ ইনডেক্সে তাদের সম্পদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ 'রিস্ক ডিসকাউন্ট' বা ঝুঁকি ছাড় প্রয়োগ করা হয়। তবুও সব হিসাব ছাপিয়ে তিনি এখন এশিয়ার ধনকুবেরদের তালিকার শীর্ষে।
