হাতকড়া পরানোর কারণ জানতে চান পলক, ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিয়েও তোলেন প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তাকে হাতকড়া পরিয়ে আনার কারণ জানতে চেয়েছেন। এছাড়া তিনি ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি নামাজ আদায় এবং আইনজীবীর সঙ্গে আলাপের সুযোগ চান।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন জুলাই আন্দোলনকালে ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার উসকানির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে পলক প্রথম আর্জি হিসেবে জানান, তিনি নামাজ আদায় এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শের জন্য দুই ঘণ্টা সময় চান।
এরপর আদালতে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে পলক জানান, চিকিৎসক তার মাথায় ভারী কিছু না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এরপরও ট্রাইব্যুনালের ভেতরে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাজতখানায় আনার সময় তাকে আজ হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া তার দুহাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'ট্রাইব্যুনাল নিরাপদ জায়গা। এই অল্প জায়গার জন্য হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ বুঝতে পারছি না।'
তিনি এর কারণ জানতে চান।
এরপর পলক বলেন, 'ট্রাইব্যুনাল সাইবার ঝুঁকিতে আছে। এখানকার কম্পিউটারে যে উইন্ডোজ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালে যেন লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহার করা হয়।'
ট্রাইব্যুনাল তখন এসব বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানাতে বলেন।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম তখন আসামি যে সময় চেয়েছেন, তার বিরোধিতা করেন।
তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, 'আসামি পলককে যে নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপার। ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের কিছু করার নেই। আর উইন্ডোজের বিষয়টি দেখা হবে।'
প্রসিকিউটর আরও জানান, এ বিষয়ে তারা আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
এদিকে, শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার নবম সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়। দুপুর দেড়টার দিকে আসামির জবানবন্দি সম্পন্ন হলে বিরতিতে যায় ট্রাইব্যুনাল। বিরতি শেষে দুপুর ২টার পর এই সাক্ষীকে জেরা করেন পলকের আইনজীবী।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলক আসামি। মামলার অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
