ব্রিকস সম্মেলনের আগে পুতিন-মোদির বৈঠক; বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিকস সম্মেলনের এক দিন আগে আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন পুতিন ও মোদি। পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।
১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আজ নয়াদিল্লিতে পৌঁছান পুতিন। আগামীকাল শনিবার ও পরদিন রোববার এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ব্রিকস জোট বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতেই ভারত এবারের সম্মেলনের আয়োজন করছে।
এর আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ভারত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ তৈরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ভারতের কাছে বাকি থাকা এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের কাজ সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, ভারতকে এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি সহযোগিতাও দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতেও আরো সহযোগিতার সুযোগ খুঁজছে রাশিয়া ও ভারত।
গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে দুই নেতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে মোদি জোর দিয়ে বলেছিলেন, সংঘাত সমাধানের পথ হওয়া উচিত সংলাপ ও কূটনীতি।
এবারের ব্রিকস সম্মেলনে জোটের ১১টি সদস্যদেশ অংশ নেবে। দেশগুলো হলো- ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যেই এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সংঘাত ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করেছে, বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
এই সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক বিষয়ে নিজেদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাও গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় বড় ভূরাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে সদস্যদেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের মধ্যেও কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
