একজন মানুষ যখন গুম হন: মিরাজ শেখ, রাষ্ট্রীয় হেফাজত ও সাংবিধানিক জবাবদিহির পরীক্ষা
মিরাজ শেখকে (৩০) গত ১০ এপ্রিল রাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি দল তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোস্ট গার্ড এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, এটি কেবল একজন ব্যক্তির গুম হওয়ার প্রশ্ন নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—কোনো ব্যক্তিকে যদি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা হেফাজতে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সেই হেফাজতের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং প্রচলিত ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা যদি কার্যকর কোনো উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কী হবে?
গুম হওয়ার পর হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ১২ জুলাই আদালত সরকারকে মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে এমন কোনো ফৌজদারি সাক্ষ্য হয়তো নেই, যা যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে পারে যে মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অপহরণ বা জোরপূর্বক গুম করেছেন। কিন্তু তাতে আইনি অনুসন্ধানের এখানেই সমাপ্তি ঘটে না। বরং বিষয়টি ভিন্ন একটি আইনি কাঠামোর অধীনে—শুধু ফৌজদারি আইনের পরিবর্তে সাংবিধানিক ও মানবাধিকার আইনের আলোকে—পর্যালোচনা করার প্রয়োজন হতে পারে।
মূল প্রশ্নটি হলো: ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির অপরাধমূলক দায় যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে, সেই কারণে কি জীবন, স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব অকার্যকর হয়ে যেতে পারে? উত্তর হলো—না। কারণ, তা হলে ব্যক্তির স্বাধীনতা এবং বেআইনিভাবে জীবন থেকে বঞ্চিত না হওয়ার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অর্থহীন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক সুরক্ষার স্বতন্ত্র মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ফলস্বরূপ, সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও সুরক্ষার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে সাংবিধানিক সুরক্ষা স্বতন্ত্র ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পরিণতি ঘটায়—এমন গুরুতর সরকারি দায়িত্ব লঙ্ঘন ফৌজদারি মামলা বা আইনে নির্ধারিত দায়বদ্ধতার বাইরে স্বতন্ত্রভাবে সাংবিধানিক প্রতিকারের জন্ম দিতে পারে। এখানে প্রথম সাংবিধানিক প্রশ্ন হলো—মিরাজ শেখকে রাষ্ট্রীয় এজেন্টদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তিনি গুম হয়েছেন—এমন একটি prima facie অবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য হাইকোর্টের সামনে পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে কি না।
মিরাজ শেখের ঘটনা সম্পর্কে এমন কয়েকটি সাক্ষ্য-প্রমাণের কথা জানা যাচ্ছে, যেগুলো হাইকোর্টের সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমত, মিরাজ শেখের স্ত্রী একটি জিডি (General Diary) করেছিলেন বলে জানা যায়, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে মিরাজকে কোস্ট গার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, মিরাজ শেখের স্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কোস্ট গার্ড সদস্যদের মধ্যে টেলিফোনে যোগাযোগের তথ্য রয়েছে বলে জানা যায়। এসব যোগাযোগের বিষয়বস্তু ও সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে এগুলো সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ prima facie evidence হতে পারে। তৃতীয়ত, মিরাজের স্ত্রী বলেছেন বলে জানা যায় যে, তিনি তাঁর স্বামীকে কোস্ট গার্ডের একটি pontoon-এর কাছে বা সেখানে আটক অবস্থায় দেখেছিলেন। চতুর্থত, আইনগতভাবে যথাযথ মনে হলে হাইকোর্ট মিরাজ শেখ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তির গতিবিধি ও যোগাযোগের বিষয়টি নির্ধারণের জন্য call-detail records (CDR) এবং অন্যান্য telecommunications information সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে পারেন। পঞ্চমত, মিরাজের মোটরসাইকেল নিয়ে একটি অভিযোগও রয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি মোটরসাইকেলটি একজন দোকানদারের কাছে রেখে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে কোস্ট গার্ডের একজন সদস্য সেটি নিয়ে যান। বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হলে এটিও তদন্তের প্রয়োজনীয় সামগ্রিক factual matrix-এর একটি অংশ হতে পারে।
এই প্রতিটি সাক্ষ্য-প্রমাণ এককভাবে কোনোভাবেই অপরাধমূলক দায় প্রমাণ করে না। একইভাবে, বর্তমান সাংবিধানিক পর্যায়ে অভিযোগকে ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য প্রমাণের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়াও আবশ্যক নয়। তবে সবগুলো উপাদান একসঙ্গে বিবেচনা করলে, মিরাজ শেখকে রাষ্ট্রীয় এজেন্টদের হেফাজতে "last seen" করা হয়েছিল কি না এবং এরপর তাঁর কী পরিণতি হয়েছে—সে বিষয়ে একটি গুরুতর বিচারিক অনুসন্ধানের প্রয়োজন হতে পারে।
ঘটনার পরবর্তী আরেকটি ঘটনাও বিচারিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার দাবি রাখে। ঘটনার পর বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মোংলার হারবারিয়া স্টেশনে হামলার ঘটনায় ৩০০-এর বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে বলে জানা যায়। ওই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ অনুযায়ী, গুম হওয়া জেলে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা খাতুন, তাঁর বোন লিজা ইসলাম এবং মা তাসলিমা বেগমও অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানা যায়। মামলায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং সরকারি কাজে বাধাদান ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৫০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এ ধরনের counter-case দায়ের করা হয়েছে বলেই কোস্ট গার্ড কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে একটি alleged enforced disappearance-এর প্রেক্ষাপটে এটি বৃহত্তর factual background-এর একটি প্রাসঙ্গিক অংশ হতে পারে, যা public law-এর দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার দাবি রাখে। বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, judicial review এবং সাংবিধানিক কার্যধারায় হাইকোর্ট কোনো ব্যক্তির ফৌজদারি অপরাধ নির্ধারণ করেন না। প্রশ্ন হলো—prima facie সাক্ষ্য-প্রমাণ কি মৌলিক অধিকার বা সরকারি দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘনের একটি prima facie case প্রতিষ্ঠা করে, যা সাংবিধানিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন সৃষ্টি করে?
রাষ্ট্রীয় এজেন্টদের হেফাজতে "লাস্ট সিন" বিচারিক পদ্ধতি এবং বিচারিক নজির
ভারতে এর সঙ্গে তুলনীয় বিচারিক পদ্ধতির নজির রয়েছে। Union of India v. Luithukla (Smt.) and Others, (1999) 9 SCC 273 মামলায় অভিযোগ ছিল, ১৯৮৩ সালের ৬ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভুক্তভোগীর স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে যান। পরদিন তাঁর ভাই সেনা ক্যাম্পে গিয়ে তাঁর খোঁজ করেন, কিন্তু তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি। পুলিশে অভিযোগ করা হয় এবং তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত একটি habeas corpus petition দায়ের করা হয়।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন যে, গুম হওয়া ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে "last seen" করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে তাঁকে আর দেখা যায়নি। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করা হয় এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি costs-এর নির্দেশও দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির তাৎপর্য হলো—কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায় এখনো কোনো প্রচলিত ফৌজদারি বিচারে প্রতিষ্ঠিত না হলেও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে—আদালত এই নীতিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
অতএব, একটি সাংবিধানিক আদালতের প্রশ্নটি ভিন্ন: কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্রীয় এজেন্টদের হেফাজতে "last seen" হন এবং পরবর্তী সময়ে গুম হয়ে যান, তাহলে তাঁর গুম হওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রের ব্যাখ্যা কী?
মিরাজ শেখের ঘটনায় এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। যদি উপলব্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণ prima facie প্রতিষ্ঠা করে যে, তাঁকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং এরপর থেকে তাঁকে আর দেখা যায়নি, তাহলে রাষ্ট্রের হেফাজতের বিষয়টি অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব শেষ হয়ে যেতে পারে না।
রাষ্ট্রের এজেন্টদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসা ব্যক্তির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে জবাব দেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব রাষ্ট্রের রয়েছে। কোনো একটি সংস্থা তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেই রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান নির্ধারণ এবং কার্যকর তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রের ওপর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব থাকে।
ভারতের National Human Rights Commission-এর কার্যক্রমে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ quasi-judicial precedent-ও রয়েছে। Tayab Ali মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, Tayab Ali-কে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে তাদের headquarters-এ নিয়ে যান। সশস্ত্র বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ভারতের NHRC প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—উভয়ের কাছ থেকে রিপোর্ট চায়। দুই মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি শনাক্ত করার পর কমিশন সাক্ষীদের বক্তব্যসহ উপলব্ধ উপাদানগুলো পরীক্ষা করে। কমিশনের মতে, Tayab Ali-কে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা নিয়ে গিয়েছিলেন—এই অভিযোগ খণ্ডন করার জন্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ যথেষ্ট ছিল না। সেই ভিত্তিতে কমিশন বিষয়টিকে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রীকে অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক সহায়তা হিসেবে INR ৩,০০,০০০ দেওয়ার সুপারিশ করে এবং রাষ্ট্রকে ফৌজদারি তদন্ত চালিয়ে যেতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
সাংবিধানিক সুরক্ষার স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট কী কী প্রতিকার দিতে পারেন?
রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়ার পর জীবনের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের অধীনে কয়েক ধরনের প্রতিকার দিতে পারেন:
(i) সাংবিধানিক আইনে accountability বা দায়বদ্ধতা সাময়িক ক্ষতিপূরণ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা;
(ii) continuous mandamus হিসেবে আদেশ pending রেখে সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট ফৌজদারি তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য জবাবদিহি করতে পারেন; এমনকি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তদন্ত করার জন্য নির্দেশনাও দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় triggering criminal law through human rights law and fundamental rights law;
(iii) সরকারকে জীবনের নিরাপত্তা দিতে বাধ্য করা আর ফৌজদারি আইনে ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায় নির্ধারণ এক বিষয় নয়। একটি সাংবিধানিক দায় এবং অন্যটি ফৌজদারি অপরাধমূলক দায়।
যেহেতু কোস্ট গার্ড তাঁকে হেফাজতে নিয়েছিল—এমন prima facie evidence রয়েছে, সুতরাং রাষ্ট্র বলতে পারবে না যে, সে কিছুই জানে না। এই দায় প্রতিষ্ঠা থেকে হাইকোর্ট নিজেকে সরিয়ে নিলে ফৌজদারি দায় নির্ধারণ কঠিনতর হয়ে পড়বে। কারণ, তখন কোস্ট গার্ড বা অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী ধরে নেবে যে, এভাবে গুম করে অস্বীকার করলে আর কোনো জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে না। তখন সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে থাকবে। সুতরাং হাইকোর্টের জন্য উচিত হবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে নজির প্রতিষ্ঠা করা, যাতে এ ধরনের গুম ভবিষ্যতে না ঘটে।
মিরাজ শেখের গুম হওয়ার ঘটনা শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরীক্ষা—ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা যখন তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দিতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক, তখন সাংবিধানিক ও মানবাধিকার সুরক্ষা কি স্বাধীনভাবে কার্যকর হতে পারে?
হাইকোর্টের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নীতি স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে: ফৌজদারি দায় যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি—শুধু এই কারণে জীবন ও স্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষা স্থগিত হয়ে যেতে পারে না। আইনের শাসনের প্রকৃত পরীক্ষা সাধারণ কোনো অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে নয়। প্রকৃত পরীক্ষা তখনই, যখন বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে যে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের ক্ষমতার সংস্পর্শে আসার পর গুম হয়ে যেতে পারেন। রাষ্ট্র তখন কীভাবে সেই নাগরিকের ভাগ্য সম্পর্কে জবাব দেয়—সেখানেই সাংবিধানিক জবাবদিহির প্রকৃত পরীক্ষা।
লেখক: এডভোকেট, আপিল বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
যোগাযোগ: halim_md@yahoo.co.uk
বিশেষ দ্রষ্টব্য: নিবন্ধের বিশ্লেষণটি লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন। অবধারিতভাবে তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর অবস্থান বা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।
