বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস কেনার প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান ইইউ রাষ্ট্রদূতের
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি 'খুব গুরুত্ব সহকারে' বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, এয়ারবাসের একটি 'অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক' প্রস্তাব রয়েছে এবং বাংলাদেশের উচিত এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইকেল মিলার বলেন, 'আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। আমরা এয়ারবাস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে চলমান আলোচনা খুব দ্রুত শেষ করার প্রত্যাশা করছি।'
সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব কোম্পানির জন্য সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, যেকোনো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। এতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো অন্য দেশের কোম্পানির সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ সম্প্রতি মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ইইউ রাষ্ট্রদূত এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন। উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, এই ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করবে বোয়িং।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, বাংলাদেশকে আরও বড় পরিসরে বোয়িং কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে এই সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
একই দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের জানান, মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিমানের বহর সম্প্রসারণ ও পুরনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনের অংশ হিসেবে ওই পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই প্রক্রিয়াটি আর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, মার্কিন শুল্কনীতি এবং বোয়িংয়ের নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সরকার বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হয়। তবে এয়ারবাসের সঙ্গে আলোচনা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি বলে জানা গেছে। ইইউ এখন সেই আলোচনাকে পুনরায় গতিশীল করে দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর তাগিদ দিচ্ছে।
