ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যে ৪৮ অশুল্ক বাধা দূর, সমাধানের জন্য প্রক্রিয়াধীন আরও ১৩টি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ইইউর চিহ্নিত ৬১টি অশুল্ক বাণিজ্য বাধার (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) মধ্যে ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট ১৩টি বিষয়ও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরুর উদ্যোগও এগিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে এসব সমস্যার বড় অংশ দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।
সমাধান হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন অন্যতম। পাশাপাশি বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে।
এ ছাড়া রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়নসংক্রান্ত জটিলতাও দূর করা হয়েছে এবং এর যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলডিসি উত্তরণে ইইউর সমর্থন চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগে ইইউর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
এ ক্ষেত্রে ইইউর শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এফটিএ নিয়ে শিগগিরই কারিগরি আলোচনা
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ও ইইউ উভয়ই লাভবান হবে।
এ সময় বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এয়ারবাস কেনার বিষয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদও জানান তিনি।
জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় আমদানি সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, জ্বালানি, বিশেষ করে এলএনজি এবং খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের গুণগত মান ও অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করে সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।
বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই এসব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
