এআই মানুষের চাকরির বাজারে ধস নামাবে না, উল্টো কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ করে দেবে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক মানুষকে কর্মহীন করে তুলবে— এখন পর্যন্ত এর কোনো বড় লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের 'ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস' (বিএলএস) জানিয়েছে, আগস্ট মাসে মার্কিন অর্থনীতিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।
দেশটিতে বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.১ শতাংশে, যা গত অর্ধশতাব্দীর প্রায় ৯০ শতাংশ মাসের তুলনায় কম। এআই-এর প্রথম শিকার হিসেবে বিবেচিত তরুণ কর্মীরাও ভালোভাবেই টিকে আছেন। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের বেকারত্ব এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের মধ্যকার ব্যবধান বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ও কর্মী এআই-এর কারণে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। পেশাদারি ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে নতুন কর্মী নিয়োগের হার ২০১৫-১৯ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম। মাইক্রোসফট ও মেটার মতো টেক জায়ান্টরা এই নতুন প্রযুক্তির আদলে ব্যবসা পুনর্গঠন করতে গিয়ে কর্মী ছাঁটাই করছে।
ব্লক (স্কয়ার ও ক্যাশ অ্যাপের মালিক) এবং ইনটুইটের (টার্বোট্যাক্স ও কুইকবুকসের প্রস্তুতকারক) মতো অপেক্ষাকৃত ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের স্থলাভিষিক্ত করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত বট। কর্মসংস্থান বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস'-এর উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছর মার্কিন কোম্পানিগুলো এআই-সংক্রান্ত কারণে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে বিশাল ও গতিশীল চাকরির বাজারে এআই-সংক্রান্ত এই ছাঁটাই প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক এক মাসেই নিয়োগকর্তারা প্রায় ১৭ লাখ কর্মীকে ছাঁটাই বা অব্যাহতি দিয়ে থাকেন। আর এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বলছে, এআই যেসব চাকরি ধ্বংস করেছে, সেগুলোর ঘাটতি মেটাতে এটি ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করছে।
ডাটা সেন্টার এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে বিপুল অংকের অর্থ ঢালা হচ্ছে, তা নির্মাণ ও অবকাঠামো কর্মীদের চাহিদায় এক তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। এআই স্টার্টআপগুলো যেন কালকের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে—এমন দ্রুততায় বিপুল নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই দৌড়ে পিছিয়ে না পড়তে প্রতিষ্ঠিত পুরোনো কোম্পানিগুলোও এআই-কেন্দ্রিক নতুন নতুন পদ তৈরি করছে। এমনকি কিছু কর্মীর কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এআই হয়তো তাদের সেবার চাহিদাও আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্ট' অনুমান করছে, এআই এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এআই-এর কারণে হওয়া আনুমানিক ২ লাখ ছাঁটাইয়ের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি; এবং ব্যাক-অফিসের অনেক পদে কমে যাওয়া নিয়োগের ঘাটতি পূরণেও এটি যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এআই অবকাঠামো নির্মাণে প্রচুর অর্থ ব্যয়ের ফলেই এসব চাকরির বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান 'গোল্ডম্যান স্যাক্স'-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম—যেমন চিপ, সার্ভার, ডাটা সেন্টার, কুলিং সিস্টেম এবং বিদ্যুৎ উপকরণের পেছনে ব্যয় ২০২২ সালের তুলনায় বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর উপাত্ত অনুসারে, কেবল ডাটা সেন্টার নির্মাণের কাজই বছরে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি গতিতে এগোচ্ছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। আর এই তড়িঘড়ি নির্মাণযজ্ঞে প্রয়োজন হচ্ছে কর্মীদের এক বিশাল বাহিনী: ওয়ারিংয়ের কাজ করার জন্য ইলেকট্রিশিয়ান, সার্ভার র্যাক অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়া রোধে এইচভিএসি বিশেষজ্ঞ, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য গ্রিড প্রকৌশলী এবং যন্ত্রাংশ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেকনিশিয়ান।
নিয়োগের এই ব্যাপক জোয়ারের চিত্র সংখ্যায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ডাটা সেন্টার নির্মাণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পাঁচটি শিল্পখাতকে—ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টিং থেকে শুরু করে সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক শিল্প পর্যন্ত—পর্যবেক্ষণে রেখেছে সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্ট'। ২০১৩ সালের পর থেকে সাধারণ নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের স্বাভাবিক ধারার তুলনায় এই খাতগুলোতে কর্মসংস্থান প্রায় ৩,২০,০০০ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে (চার্ট ১ দ্রষ্টব্য)। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) প্রত্যাশা করছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে সেবা খাতগুলোই হবে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বড় খাত।
অবশ্য এই সবকটি চাকরির পেছনে কেবল এআই-এর হাত নেই—বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং অন্যান্য কারখানা নির্মাণেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে এর সিংহভাগই এআই-কেন্দ্রিক। প্রকৃতপক্ষে, একটি চাকরি বিষয়ক ওয়েবসাইট দেখেছে যে, সার্বিক চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যেখানে কমেছে, সেখানে ডাটা সেন্টার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা গত দুই বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন-এর অনুমান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডাটা সেন্টার কেন্দ্রিক প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে যেখানে ডাটা সেন্টার টেকনিশিয়ান ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগই সবচেয়ে বেশি ছিল।
কর্মী সংকটের এই তীব্র প্রতিযোগিতা এখন ধরা পড়ছে পে-চেক বা বেতনের অঙ্কেও। 'ইন্ডিড'-এর তথ্য মতে, ডাটা সেন্টারের ইন্সটলেশন ও মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণের চাকরিতে অন্যান্য সমকক্ষ পদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি বেতন দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বেতনের উপাত্ত থেকেও একই চিত্র ফুটে ওঠে। জুন পর্যন্ত গত এক বছরে ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাতে গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় বেড়েছে ১৩ শতাংশেরও বেশি, এবং ইলেকট্রিক্যাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে তা বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।
বেতন বৃদ্ধি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মী খুঁজে পাওয়া এখনও কঠিন। সম্প্রতি একটি ট্রান্সফরমার কারখানা পরিদর্শনের সময় 'ন্যাশনাল ইলেকট্রিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন'-এর ডোনাল্ড লিভেন্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর কাছে জানতে চান, তার সবচেয়ে কী সাহায্য প্রয়োজন। জবাবে তিনি বলেন, 'আপনি কি এখানে এসে আমার একটি প্রোডাকশন লাইন চালিয়ে দিতে পারবেন?'
চাকরির এই বাজারে কেবল মানুষের শ্রম বা ফিল্ডের কাজের লোকই বাড়ছে না, এআই সৃষ্টি করছে এক নতুন ধারার 'হোয়াইট কলার' বা দাপ্তরিক পেশাজীবী শ্রেণী। প্রকৌশলীরা মডেল তৈরি করছেন, ডাটা অ্যানোটোটররা ইনপুট চিহ্নিত করে এর উত্তর মূল্যায়ন করছেন, 'ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড' ইঞ্জিনিয়াররা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী মডেল প্রস্তুত করছেন, আর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত 'হেডস অব এআই' ঠিক করছেন প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাবে। এর মধ্যে কিছু পদের অস্তিত্ব সম্প্রতি পর্যন্ত ছিলই না, যেগুলোর সংখ্যা এখন দ্রুত বাড়ছে।
লিংকডইনের হিসাবমতে, ২০২৩-২৪ সালের পর থেকে 'হেড অব এআই', 'এআই ইঞ্জিনিয়ার' এবং 'ডাইরেক্টর অব এআই' পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পরিসংখ্যানের চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউট'-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভানন তাঁদের ক্যারিয়ার হিস্ট্রি ডাটাবেস (যা মূলত লিংকডইনের তথ্যের ওপর নির্ভর করে তৈরি) ব্যবহার করে প্রাথমিক গবেষণায় এমন সব চাকরি চিহ্নিত করেছেন—যা এআই ছাড়া অস্তিত্বশীল হতে পারত না। তা এআই-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানেই হোক কিংবা অন্য কোম্পানির এআই-নির্দিষ্ট পদই হোক।
তার মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ শতাংশ পেশাদারি কাজই হলো 'এআই নির্ভর চাকরি'—যার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের মতো। কম্পিউটার সংক্রান্ত পেশা এবং লাইফ সায়েন্সে (যেখানে গবেষকরা নতুন ওষুধ আবিষ্কারে এআই ব্যবহার করছেন)—এই অনুপাত প্রায় ৪-৫ শতাংশ। লিংকডইনের নিজস্ব বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার নতুন এআই-নির্দিষ্ট চাকরি তৈরি হয়েছে। লিংকডইনের আমেরিকা অঞ্চলের অর্থনীতিবিষয়ক প্রধান কোরি কানটেঙ্গা বলেন, 'এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বলছে, এআই সব মিলিয়ে নেট বা নিট চাকরির সুযোগ তৈরি করতেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।'
সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্ট' এআই প্রযুক্তির এই উত্থানের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা পেশাজীবী ক্ষেত্রগুলোতে—যেমন প্রকৌশলী, সফটওয়্যার ডেভেলপার, গণিতবিদ ও ডাটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণ করেছে এবং ২০২২ সাল থেকে সার্বিক পেশাদার কর্মসংস্থানের সাথে তাদের বৃদ্ধির তুলনা করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পদগুলোতে স্বাভাবিক ধারার তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। এর প্রতিটি চাকরিই হয়তো সরাসরি এআই সৃষ্টি করেনি, তবে নিঃসন্দেহে এর একটি বড় অংশের পেছনে কাজ করেছে এআই।
চাকরির সুযোগ তৈরির তৃতীয় উৎসটি আসছে 'উৎপাদনশীলতা বা কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি' থেকে। এআই ব্যবহারের ফলে আইনজীবীরা এখন অনেক দ্রুত চুক্তিপত্র খসড়া করতে পারছেন এবং আর্থিক বিশ্লেষকরা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে পারছেন। এভাবে উচ্চ কর্মদক্ষতা যদি পেশাদারি সেবাগুলোর ব্যয় কমিয়ে দেয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই সেই সেবার চাহিদা এতটা বাড়তে পারে যা সার্বিকভাবে কাজের নতুন সুযোগ ও কাজের পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
যেসব পেশা একসময় এআই-এর কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হতো, সেগুলোর কয়েকটি কিন্তু এই ইতিবাচক প্রভাব থেকে লাভবান হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আইনি সহকারীর কর্মসংস্থান বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ এবং বাজার-গবেষণা বিশ্লেষকদের বেড়েছে ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় বৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ-এর কাছাকাছি।
সামনেই বড় আকারের ছাঁটাই আসছে—এমন আশঙ্কাজনক সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস-এর পূর্বাভাস বলছে, এআই সিস্টেম এবং এ-সংক্রান্ত পরামর্শ সেবার চাহিদার বদৌলতে পেশাদারি সেবা খাতগুলোর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
অবশ্য কিছু কিছু পেশা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে গ্রাহকসেবা কর্মীদের কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ, আর সচিব ও প্রশাসনিক সহকারী পদে তা কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। মূলত এই তিনটি পেশাতেই নিয়মিত ও বাঁধাধরা ধরনের কাজ বেশি থাকে—যেগুলোতে এআই এজেন্টরা ক্রমেই পারদর্শী হয়ে উঠছে। বিএলএস-এর ধারণা, ২০৩৫ সালের মধ্যে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তামূলক পদগুলোতে প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার চাকরি বিলুপ্ত হবে।
তবে এআই-এর সক্ষমতা যত প্রসারিত হবে, এটি নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে থাকবে—এমন সম্ভাবনাই বেশি। প্রায় ৬০ লাখেরও বেশি মার্কিন নাগরিক বর্তমানে কম্পিউটার-সংক্রান্ত এমন সব পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন, কম্পিউটার যুগের আগে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। আরও ৮০ লাখ মানুষ কাজ করছেন গিগ ইকোনমি (স্বাধীন বা চুক্তিভিত্তিক কাজ), ই-কমার্স এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মতো নতুন সব শিল্পখাতে। ভবিষ্যতের কর্মীরা হয়তো স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টদের দল তদারকি করবেন কিংবা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিরোধ মেটানোর কাজ করবেন। শুনতে কাল্পনিক মনে হলেও এক বা দুই দশক আগে 'ইনফ্লুয়েন্সার' হওয়াটাও এমনই অবাস্তব মনে হতো!
