হ্যারি-মেগান যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ায় ‘খুশি’ ট্রাম্প, বললেন ‘আমি রাজা হলে ওদের ফেরত নিতাম না’
ব্রিটিশ রাজপরিবারের উপাধি ত্যাগ করা ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি এবং ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ায় অত্যন্ত 'খুশি' হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে প্রথম প্রকাশ পায় যে হ্যারি ও মেগান গত আগস্টে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই তাঁদের সন্তানদের ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন এবং লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের মালিকানাধীন নয়—এমন একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।
হ্যারি-মেগানের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমি এতে খুশি। আমি কখনোই তাদের ভক্ত ছিলাম না। আমার মনে হয়েছে তারা রাজপরিবারের প্রতি অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ করেছেন।'
ট্রাম্প আরও বলেন, 'আমি বিষয়টি মোটেও পছন্দ করিনি। বিশেষ করে মেগানের আচরণ আমার ভালো লাগেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে সে রানী এলিজাবেথ ও রাজা চার্লসের প্রতি অত্যন্ত অভদ্র আচরণ করেছে। আমি জানি না, হয়তো আমার চিন্তাভাবনা আলাদা। তবে আমি রাজা হলে তাদের কখনোই যুক্তরাজ্যে ফেরত নিতাম না।'
অবশ্য রাজপরিবারে ফিরলেও হ্যারি বা মেগানের অফিশিয়াল রাজকীয় দায়িত্ব বা রাজকর্মে পুনরায় যুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। তবে তাদের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যতে রাজপরিবারের সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ত হওয়ার পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছয় বছর আগে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম সপরিবারে ব্রিটেনে ফিরলেন হ্যারি-মেগান। তাদের এই প্রত্যাবর্তনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য।
এর আগেও ট্রাম্প রাজপরিবারের প্রতি এই দম্পতির আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যারির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে চলা দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাঝেও তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কনজারভেটিভ থিঙ্ক ট্যাংক 'দ্য হেরিটেজ ফাউন্ডেশন' অভিযোগ তুলেছিল যে—প্রিন্স হ্যারি হয়তো তার ভিসার নথিতে অতীতে মাদক নেওয়ার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন অথবা ইমিগ্রেশন বিভাগ তাকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছিল। সংস্থাটি প্রিন্সের ভিসার ফাইলটি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়ে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। তবে গত সেপ্টেম্বরে এক বিচারক রায় দেন যে—অন্যান্য সাধারণ নাগরিকদের মতোই প্রিন্স হ্যারিরও তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
ট্রাম্প সে সময় জোর দিয়ে বলেছিলেন যে হ্যারিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তার 'কোনো আগ্রহ' নেই। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, মেগানের মতো 'ভয়াবহ' এক স্ত্রীর কারণে ৪০ বছর বয়সী হ্যারির জীবনে এমনিতেই 'যথেষ্ট সমস্যা' রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ফিরে হ্যারি ও মেগান পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজপরিবারের কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না এবং সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বসবাস করবেন। তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রিন্স হ্যারি অতীতে বেশ কয়েকবার বলেছিলেন যে—যুক্তরাজ্যে ফিরে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বা 'পুলিশ প্রটেকশন' না পেলে তিনি সপরিবারে সেখানে নিজেকে নিরাপদ বোধ করবেন না।
উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়া এবং পর্তুগালে তাদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং মেগান তার লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড 'অ্যাজ এভার' পরিচালনা করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে মনে করেন। তিনি একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি যুক্তরাজ্যে দুটি অফিশিয়াল রাষ্ট্রীয় সফর করার বিরল সম্মান পেয়েছেন। মূলত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতি ট্রাম্পের এই বিশেষ অনুরাগ তৈরি হয়েছিল, যার সঙ্গে তিনি দুইবার দেখা করেছিলেন।
অন্যদিকে, রাজপরিবারে বিয়ের আগে মেগান মার্কেল ট্রাম্পকে সরাসরি একজন 'নারীবিদ্বেষী' এবং 'বিভাজন সৃষ্টিকারী' ব্যক্তি বলে বর্ণনা করেছিলেন। এমনকি ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে হ্যারি-মেগান একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে ভোটারদের 'ঘৃণ্য বক্তব্য, অপপ্রচার এবং ইন্টারনেটের নেতিবাচকতা বর্জন করার' আহ্বান জানিয়ে পরোক্ষভাবে জো বাইডেনকে সমর্থন করেছিলেন। মেগান ওই নির্বাচনকে 'আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন' বলে অভিহিত করেছিলেন।
