অস্ত্র হাতে ‘লেক আমেরিকা’ পাহারায় ‘ডোনাল্ড ডাক’ বাহিনী, কানাডাকে ট্রল করে ট্রাম্পের এআই ভিডিও
কানাডার সঙ্গে তীব্র শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধের মাঝেই এবার নতুন এক অভিনব প্রচারণায় নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি দুটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও পোস্ট করেছেন; যার একটিতে অস্ত্র নিয়ে 'ডোনাল্ড ডাক' বা রাজহাঁসের বাহিনীকে নবঘোষিত 'লেক আমেরিকা'র উপকূল পাহারা দিতে দেখা যাচ্ছে।
ঘণ্টাখানেক পর, ভার্জিনিয়ার গলফ কোর্সে থাকার সময় প্রেসিডেন্ট আরেকটি এআই ভিডিও পোস্ট করেন। যেখানে তাকে নিজের হাতে 'স্বাগতম লেক ওন্টারিও' সাইনবোর্ডটি ভেঙে সেখানে 'স্বাগতম লেক আমেরিকা' সাইনবোর্ড বসাতে দেখা যায় এবং এর পরই তিনি বিখ্যাত 'ওয়াইএমসিএ' গানের তালে নাচ শুরু করেন।
কানাডার সঙ্গে চলমান তীব্র বাণিজ্য দ্বন্দ্বের জেরে গত বৃহস্পতিবার ওন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' রাখার বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এই ভিডিওগুলো মূলত সেই সিদ্ধান্তের পক্ষেই তার এক ধরনের প্রচারণা।
প্রথম ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটিতে বিখ্যাত 'হাওয়াই ফাইভ-ও' থিম মিউজিকের তালে একদল কানাডিয়ান রাজহাঁসকে (কানাডা গিজ) লেক ওন্টারিওর তীরে মার্চ করতে দেখা যায়। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো—রাজহাঁসগুলোর মানুষের মতো হাত রয়েছে, তাদের সবার হাতে অ্যাসাল্ট রাইফেল এবং মাথায় রয়েছে ট্রাম্পের ট্রেডমার্ক ব্লন্ড (সোনালী) চুলের স্টাইল।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজহাঁসগুলো শূন্যে গুলি ছুঁড়ছে এবং পেছনের শহরের আকাশজুড়ে বাজি ফুটছে, যা দেখতে অনেকটা কানাডার টরন্টো শহরের মতো মনে হয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প টিকটকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, যেখানে তিনি একটি মার্কার পেন (শার্পি) দিয়ে মানচিত্রের লেক ওন্টারিও নামটি কেটে দিয়েছিলেন। ভিডিওতে ৮০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, 'আমরা একটি ছোট পরিবর্তন করতে যাচ্ছি; আমরা একে লেক ওন্টারিওর চেয়ে ভিন্ন কিছু বলব। আমরা একে লেক আমেরিকা বলব।'
এটি কেবল নিছক কোনো পরিহাস বা ট্রোল ছিল না, তা গত বৃহস্পতিবার প্রমাণিত হয় যখন ট্রাম্প সব মার্কিন সরকারি সংস্থাকে ওন্টারিও হ্রদকে 'লেক আমেরিকা' হিসেবে উল্লেখ করার নির্বাহী আদেশ দেন। এর আগে গত বছর তিনি একতরফাভাবে 'মেক্সিকো উপসাগর'কে 'আমেরিকা উপসাগর' হিসেবে নামকরণের একই ধরনের চেষ্টা করেছিলেন।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি নথিতে ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে, কিন্তু তিনি কানাডা বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোকে এই নাম মানতে বাধ্য করতে পারেন না।
ট্রাম্পের এই একতরফা নামকরণের জবাবে গত বৃহস্পতিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
তিনি লিখেছেন, '"লেক ওন্টারিও" নামটি এসেছে আদিবাসী ওয়েনদাত শব্দ "ওন্টারিও" থেকে, যার অর্থ "এই হ্রদ সুন্দর, এই হ্রদ বিশাল"। এই নামটি ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, যা কানাডা রাষ্ট্র গঠন এবং আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণারও আগের।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা জানি যে আমেরিকা বদলে যাচ্ছে। তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক, তাদের পররাষ্ট্রনীতি, তাদের জাতীয় নিদর্শন ও হ্রদের নাম—সবই তারা বদলাচ্ছে। তবে কানাডিয়ানরা ভালো করেই জানে যে বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না—এই হ্রদের নাম সবসময় "লেক ওন্টারিও" ছিল, আছে এবং থাকবে।'
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে, বিশেষ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের '৫১তম অঙ্গরাজ্য' বানানোর ট্রাম্পের ক্রমাগত দাবির কারণে। আর গত সপ্তাহে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
গত ২২ আগস্ট কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্পের দাবি, কানাডা মার্কিন ব্যবসার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্নি এই শুল্ক আরোপকে 'যুদ্ধ ঘোষণার' সঙ্গে তুলনা করে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন।
এই বাণিজ্য যুদ্ধ এখন দুই দেশের নেতাদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডকে এক হাত নিয়ে তাঁকে 'ফরমায়েশ খাটা চাকর' বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এর জবাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ফোর্ড ট্রাম্পকে সরাসরি 'স্বৈরশাসক', 'গা জোয়ারি করা গুণ্ডা' এবং 'দেউলিয়া হওয়ার রাজা' বলে কটাক্ষ করেন। এছাড়াও তিনি ট্রাম্পকে বলেন, 'কিস মাই এ*'
