লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টা: রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ইইউ ও ফ্রান্স
জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে নাশকতামূলক হামলার চেষ্টার অভিযোগে ব্রাসেলসে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস। গত মাসে (আগস্ট) ঘটে যাওয়া এই ব্যর্থ 'হাইব্রিড হামলার পেছনে মস্কোর হাত রয়েছে বলে জার্মানির তদন্তে উঠে আসার পর আজ বুধবার ইইউ এ পদক্ষেপ নেয়।
আয়ারল্যান্ডে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকের আগে এস্তোনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কায়া কালাস বলেন, "আমরা লাইপজিগ হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছি। এটা স্পষ্ট যে এতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের (স্টেট-স্পন্সরড টেররিজম) সব ধরনের লক্ষণ বিদ্যমান।"
তিনি আরও জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রায় ১,৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার যে প্যাকেজ নিয়ে ইইউ কাজ করছে, সেখানে এই ঘটনার পর আরও কঠোর পদক্ষেপ বা নতুন নাম যুক্ত হতে পারে।
একই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্সও। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো ডাবলিনে সাংবাদিকদের জানান, তিনি প্রতিবাদ জানাতে প্যারিসে নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার কথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা গোপন জাহাজ বহরের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান ইইউকে।
ডাবলিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইইউভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার বার্লিনে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট জানান, পুলিশি তদন্ত, অপরাধের ধরন এবং গোয়েন্দা তথ্যের সামগ্রিক বিশ্লেষণে— লাইপজিগ বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টার পেছনে সরাসরি রাশিয়ার দায় প্রমাণিত হয়েছে।
জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের কনফিগারেশন, যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক ও ডেটোনেশন ব্যবস্থাগুলো ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য স্থানে পরিচালিত রুশ 'হাইব্রিড অপারেশনের' সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, জার্মানি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ঘটনা সাজাচ্ছে।
উল্লেখ্য, পূর্ব জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি ইউরোপের একটি অন্যতম প্রধান কার্গো বা মালবাহী পরিবহন হাব। ইউক্রেনীয় বিমান সংস্থা ও উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান– অ্যান্টনভ তাদের মালামাল ইউক্রেনে স্থানান্তরের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই বিমানবন্দরটিকে কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
