সর্বোচ্চ ১৪২% পর্যন্ত বাড়িয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে-স্কেল অনুমোদন, বাস্তবায়ন ৩ ধাপে
হাইলাইটস:
- তিন ধাপে বেতন বৃদ্ধির বিধান রেখে ৯ম পে-স্কেল অনুমোদন মন্ত্রিসভার
- ২০তম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ২০,০০০ টাকা এবং ১ম গ্রেডের বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা
- সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাতা ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর
- স্বল্প আয়ের পেনশনভোগীদের উল্লেখযোগ্য হারে বেশি শতাংশে পেনশন বৃদ্ধি
- সকল গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা সুবিধা সম্প্রসারণ
- নতুন এই পে-স্কেলের ফলে প্রায় ৩৩ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।
তবে, নতুন পে-স্কেলের সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পেনশনও একইভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আয়োজিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি নাসিমুল গনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, 'আজ মন্ত্রী সভায় বেতনস্কেল পাশ হয়েছে। বেশ কিছু এসআরও এর মাধ্যমে এর বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করা হবে।'
নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী তিনি বলেন, 'এতদিন সীমিতসংখ্যক উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তা মোবাইল ভাতার আওতায় থাকলেও নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীই মোবাইল ভাতা পাবেন। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে নিট পেনশন ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
নাসিমুল গনি বলেন, 'প্রায় ১২ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হচ্ছে। নতুন স্কেলটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও বাস্তবায়ন হবে পর্যায়ক্রমে। প্রথম থেকে ১১ তম গ্রেড পর্যন্ত ১০০ ভাগ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ছে।'
মূল বেতন তিন ধাপে
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ।
তবে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে দেওয়া হবে না। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত মূল বেতন তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর সব ভাতা একযোগে কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।
নাসিমুল গনি বলেন, 'বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারের এই ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনার পেছনে বড় কারণ হলো একযোগে বিপুল অর্থ ব্যয়ের চাপ এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।'
পেনশনারদের ওয়ান স্কেল, ওয়ান পে
নাসিমুল গনি বলেন, 'নতুন বেতন কাঠামোয় সবচেয়ে বেশি স্বস্তির খবর রয়েছে পুরোনো পেনশনারদের জন্য। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির 'ওয়ান স্কেল ওয়ান পেনশন' বা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (ওআরওপি) বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ২০৩০ সাল থেকে।'
'তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পেনশন বাড়ানোর নতুন ফর্মুলা অনুমোদন করা হয়েছে। এতে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি হারে সুবিধা পাবেন,' যোগ করেন নাসিমুল গনি।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী–
৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন পেলে বাড়বে ১০০ শতাংশ
৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ
২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ
৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬০ শতাংশ
৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ
সবার জন্য মোবাইল ভাতা
নাসিমুল গনি জানান, নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি মোবাইল ভাতা। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যয় বাড়ার বাস্তবতা বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এতদিন শুধু ৫ম গ্রেড পর্যন্ত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীরা এ সুবিধার আওতায় ছিলেন। নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
তিনি বলেন, 'সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সরকারি দপ্তরগুলোতে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে বেতন কাঠামোর সমন্বয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে অফিসিয়াল যোগাযোগ, ই-মেইল, অনলাইন সভা, ডিজিটাল ফাইল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সরকারি অ্যাপভিত্তিক কাজ বাড়ায় প্রায় সব পর্যায়ের কর্মচারীকেই ব্যক্তিগত মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে।'
উপকৃত হবেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
সব মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।
নাসিমুল গনি বলেন, 'প্রায় ১২ বছর বেতনস্কেল দেয়া হয়নি। এটি খুব জরুরি ছিল। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এর সংস্থান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।'
