ইরানকে সহায়তাকারী দেশ ডলারভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে ‘বাদ’ পড়বে, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের ওপর 'অর্থনৈতিক আক্রমণ' আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর বিরুদ্ধে সোমবার (২৪ আগস্ট) নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন পদক্ষেপকে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বিভিন্ন দেশকে 'এটি শেষ সতর্কবার্তা'। তা না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, 'বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগের বিরুদ্ধে আমরা অর্থনৈতিক হামলা শুরু করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া, যাতে তেহরান একা হয়ে পড়ে।'
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং তেল পাচারে ইরান যেসব নেটওয়ার্ক ও আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করে, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ইরানের 'অবৈধ আয়'-এর সব উৎস বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরান অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন—এই পাঁচ খাত ব্যবহার করছে। এসব খাতের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
চীন কয়েক বছর ধরে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। চীনে ইরানি তেল কেনা-বেচা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়িয়েছে। তবে এ বাণিজ্যে জড়িত থাকতে পারে—এমন বড় চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এখনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস হতে চলেছে। বড় ধরনের লড়াই কমলেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা এগোয়নি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম চড়া রয়েছে।
যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপরও পড়েছে। সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তার কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ইরানের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল বিক্রির আয় কমানো এবং বিমান চলাচল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ সীমিত করা। ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবসার অর্থের প্রবাহও বন্ধ করার চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে না। তবে অতীতে ইরান নতুন ভুয়া কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ নিবন্ধন করে দ্রুত এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।
