৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটে আদেশ কাল
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর আগামী মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এই দিন ধার্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।
রিট আবেদনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গত ৬ আগস্ট ঘোষিত তফসিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখারও আবেদন করা হয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি (ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ শুনানিতে বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। এতে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা থাকে না। এই অনুচ্ছেদটি সংবিধান ও গণতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও দাবি করেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল না হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়ে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ফলে এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশের পর এই নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
