সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন কারাগারে
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে (৫৪) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এতথ্য নিশ্চিত করেন।
বেলা পৌনে ৩ টার দিকে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট, হাতে হাতকড়া পরিয়ে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে এজলাসে তোলা হয় ডনকে। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর জ্যাকেট, হেলমেট, হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। কালো রঙের ছাপা শার্ট, জিন্স প্যান্ট, হলুদ জুতা পরিহিত ডন কাঠগড়ার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন।
বিকাল ৫টা ৮ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। এসময় বিচারক জানতে চান, আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কি না? প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে জানানো হয়, আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই।
এরপর প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিকে কারাগারে আটক রাখার যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি শুনানিতে বলেন, 'এটি একটা আলোচিত মামলা। দীর্ঘদিন পর একটা পর্যায়ে এসেছে। আজ ভোরে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলেন এ আসামি। ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করে সিআইডি পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সিআইডি পুলিশ তাকে আদালতে উপস্থাপন করেছে।'
তিনি বলেন, 'ঢাকার সিনেমার প্রখ্যাত, নন্দিত, জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালে তাকে খুন করা হয়। তার পরিবার যেন মামলা না করে এজন্য সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণ করে পরিবারকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ক্যান্টনমেন্ট থানায় অপহরণের মামলা করেন।'
তিনি আরও বলেন, 'রিজভী ওরফে ফরহাদ নামে এক আসামিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। রিজভী এই মামলারও আসামি। ওই মামলায় রিজভী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। যেখানে সালমান শাহকে কীভাবে হত্যা করা হয় তাও উঠে আসে। অপহরণের মামলায় রিজভীর দুই বছরের জেল হয়। সাজা খেটে তিনি পলাতক রয়েছেন।'
ওমর ফারুকী বলেন, 'আসামিকে জামিন দিলে পলাতক হতে পারেন। তাকে কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা করছি।'
শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, আজ রোববার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিকালে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামি আশরাফুল হক ডনসহ (৫৪) এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিসহ অজ্ঞাতনামারা পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক ছিলেন। আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান। আসামি জামিন হলে তদন্তে বিঘ্নসহ চিরতরে পলাতক হতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন বলে জানান এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
জানা গেছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন থেকে জানানোর পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নিয়েছে।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
