বছরের প্রথমার্ধে ইস্টার্ন ব্যাংকের মুনাফা ২৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩৯ কোটি টাকা
চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর সমন্বিত নিট মুনাফায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৩৯ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬৭ পয়সায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল (পুনর্নির্ধারিত) ২ টাকা ১৪ পয়সা। একক বা স্ট্যান্ডঅ্যালোন ভিত্তিতে শেয়ার প্রতি আয় ২ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৬১ পয়সা হয়েছে।
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকেও ইবিএল-এর মুনাফায় উন্নতি হয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস আগের বছরের ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সায়।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সিকিউরিটিজে (ট্রেজারি বন্ড) বেশি বিনিয়োগ করার কারণে মূলত এই শক্তিশালী পারফরম্যান্স সম্ভব হয়েছে। আকর্ষণীয় সুদের হারের কারণে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ লাভজনক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে নন-ফান্ডেড আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতা এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে প্রথমার্ধে শেয়ার প্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) আগের বছরের ১৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ৭ টাকা ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
আলোচ্য সময়ে ইবিএল-এর আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) আগের বছরের ২৭ টাকা ০৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৩০ টাকা ৭১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একক ভিত্তিতে শেয়ার প্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ১২ পয়সা।
দক্ষ পরিচালন ও বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইবিএল ব্যাংকিং খাতে বরাবরই খেলাপি ঋণের (এনপিএল) হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ইবিএল-এর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার চলমান সম্প্রসারণ এবং ট্রেড ফাইন্যান্স, কার্ড ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা থেকে ফি-ভিত্তিক আয় বৃদ্ধি আগামী মাসগুলোতে ব্যাংকটির ভালো মুনাফা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জন্য ব্যাংকটি তার শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল।
