Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Sunday
September 20, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
SUNDAY, SEPTEMBER 20, 2026
ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, ঘরে ফিরে তা নিয়েই মিম বানাচ্ছেন তরুণেরা

আন্তর্জাতিক

বিবিসি
23 July, 2026, 09:30 pm
Last modified: 23 July, 2026, 09:40 pm

Related News

  • আবারও ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও রাশিয়ার তেলের দ্বিমুখী চাপে ভারত
  • ‘স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব’: ঢাকার ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে নয়াদিল্লি
  • পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্বে উত্তাল ভারতের ঐতিহ্যবাহী টাটা গ্রুপ
  • যুক্তরাষ্ট্রের ১০০% শুল্কের হুমকির মধ্যেই জুলাইয়ে ভারতের অর্ধেকের বেশি তেল এসেছে রাশিয়া থেকে
  • নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, ঘরে ফিরে তা নিয়েই মিম বানাচ্ছেন তরুণেরা

ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসার পর ইনস্টাগ্রাম ভেসে যায় হাজার হাজার রিল, মিম ও বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা ভিডিওতে। কোনো কোনো ভিডিওতে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেলেও অধিকাংশের মধ্যে ছিল তীব্র ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা।
বিবিসি
23 July, 2026, 09:30 pm
Last modified: 23 July, 2026, 09:40 pm
ছবি: গেটি/ ভায়া বিবিসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বানিয়ে বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা, ব্যঙ্গ আর রসিকতা শেয়ার করেই চলেছেন ভারতের 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তাদের সমর্থনকারী মানুষ। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখে পড়ার পর তা নিয়ে বানানো হচ্ছে এসব ভিডিও ও মিম, যা নেটদুনিয়ায় এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

২০ বছর বয়সী ছবির (ছদ্মনাম) অভিজ্ঞতা দিয়েই শুরু করা যাক। তিনি গত সোমবার দিল্লির এক মেট্রো স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পোশাক দেখাতে 'ফিট চেক' ভিডিও রেকর্ড করছিলেন। ক্যামেরায় হেসে তিনি বলছিলেন, "গাইজ, পুলিশের মার খেতে যাচ্ছি"।

ঘণ্টাখানেক পরেই পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস ও সরকারি নিয়োগ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে ভারতের পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের মুখে পড়েন হাজার হাজার তরুণ আন্দোলনকারী। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অনেক আন্দোলনকারী আহত হন। কিছু পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথাও জানা গেছে।

'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র ব্যানারে আয়োজিত এই আন্দোলনে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি তুলেছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান অবশ্য পদত্যাগ করতে রাজি নন, তিনি উল্টো বিরোধী দলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।

এই বিক্ষোভের কারণে স্থানীয় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

পার্লামেন্টের উদ্দেশ্যে পদযাত্রার আগে অনেক বিক্ষোভকারীই তাদের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে পোস্ট করেছিলেন 'ফিট চেক' ভিডিও, যা একটি নতুন ট্রেন্ড। ছবি: দিভা আরোরা নামক ব্যবহারকারীর ভিডিও স্ক্রিনশট

ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে আসার পর ইনস্টাগ্রাম ভেসে যায় হাজার হাজার রিল, মিম ও বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা ভিডিওতে। কোনো কোনো ভিডিওতে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেলেও অধিকাংশের মধ্যে ছিল তীব্র ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা।

এক তরুণী দাঙ্গা পুলিশের সারির সামনে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে লিপস্টিক দিচ্ছিলেন। অন্য একজন রসিকতা করে বলেন, "সরকার বিচার দিতে পারছে না বলে বিক্ষোভের মধ্য দিয়েই নিজের মুখ দেখাচ্ছি।"

অন্য একটি রিলে টিয়ার গ্যাসের গন্ধ ও জ্বালা নিয়ে এক তরুণ রিভিউ বা রেটিং দিচ্ছিলেন—যেন তিনি কোনো নতুন রেস্তোরাঁর খাবারের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় ছবিও তার করা ভিডিওগুলো আপলোড করেন। সেখানে একটা বিষয়ের পার্থক্য ছিল চোখে পড়বার মতো। ওই পদযাত্রার আগে ছবি পুলিশের হাতে মারের কথা বলে রসিকতা করতেন। কিন্তু, সেদিনের ভিডিওগুলোয় তাকে দেখা যায়, দাঙ্গা পুলিশ সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে, দুই আঙ্গুলে জয়ের চিহ্ন দেখাতে। তিনি ভিডিও করেছিলেন সমবেত তরুণ জনতার ভিড়কে, এমনকী আহত বিক্ষোভকারীদের সাক্ষাৎকারও ধারণ করেন ক্যামেরায়।

সেদিন সামাজিক মাধ্যমে আপলোড হয় এমন হাজারো রিল, মিম আর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সরাসরি দেওয়া বর্ণনা। আন্দোলনকারীরা ইন্টারনেট সংযোগ ফিরে পাওয়ার পর দ্রুতই ইনস্টাগ্রাম রাজপথের তাজা অভিজ্ঞতার হাজার হাজার ভিডিওতে সয়লাব হয়ে যায়। এর কোনোটিতে ছিল ক্ষোভের চরম প্রকাশ, কোনোটিতে আতঙ্কের ছাপ কিংবা নীরব প্রতিরোধ। তবে যা সবচেয়ে বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল, তা হলো এসবের মধ্যে থাকা তরুণদের তীক্ষ্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক কৌতুকবোধ।

যেমন একটি রিল সাধারণ 'আউটফিট রিভিল' (পোশাক দেখানোর) ভিডিও হিসেবে শুরু হলেও— মুহূর্তেই তা বদলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের টিয়ার গ্যাস থেকে প্রাণভয়ে দৌড়ানোর দৃশ্যে রূপ নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা এসব দেখছিলেন, তাদের কারো কারো কাছে এমন সহিংসতার মাঝে এসব কৌতুক বা রসিকতা কিছুটা বেখাপ্পা ও অদ্ভুত ঠেকছিল। তবে যেসব তরুণ-তরুণী এসব ভিডিও তৈরি করছিলেন, তারা এতে কোনো বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি নেই বলেই বিশ্বাস করেন।

এক লাইনের স্লোগান থেকে শুরু করে ব্যঙ্গাত্মক কটাক্ষ, ককরোচ বিক্ষোভের মৌলিক বৈশিষ্ট্যে রূপ নিয়েছে এমন সব প্ল্যাকার্ড। ছবি: রয়টার্স

যেসব তরুণ-তরুণী এই ভিডিওগুলো তৈরি বা শেয়ার করেছেন–তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়া কোনো তরুণ বিক্ষোভকারীই ভিডিও তৈরি বা শেয়ার করার ক্ষেত্রে—সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম, এঙ্গেজমেন্ট কিংবা 'ভাইরাল' হওয়ার বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। বরং, তারা বলেছেন, রাজপথে প্রতিবাদের সঙ্গে ভিডিও ধারণ করার বিষয়টি একেবারেই অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছিল।

আর যখনই তারা কোনো রসিকতা করেছেন, তা প্রায় সব সময়ই ছিল নিজেদের কেন্দ্র করে—যেমন পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাঁচতে কত কিলোমিটার তাদের দৌড়াতে হয়েছে, কিংবা টিয়ার গ্যাসের মুখোমুখি হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সাজগোজের ভিডিও করার অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে রসিকতা। আর এসব কৌতুক তাদের ভেতরের ভয়কে হাওয়া করে দেয়নি, বরং একদিকে ভয় অন্যদিকে ব্যঙ্গ করার সাহস নিয়েই তারা বিক্ষোভস্থলে অবস্থান করছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতাই দেখাচ্ছে কীভাবে ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা এক নতুন প্রজন্ম—আন্দোলন বা প্রতিবাদকে দেখছে ও উপলব্ধি করছে।

প্রযুক্তি ও সমাজ নিয়ে গবেষণা করা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয়জিৎ পাল বলেন, "আগের প্রজন্ম রাজনীতিকে তাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা রাখত। তবে নতুন প্রজন্ম তাদের দৈনন্দিন কাজের সময়, পারিবারিক ছবি কিংবা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা মিমগুলোর পাশাপাশি রাজনীতিকেও ধারণ করে বড় হচ্ছে।" এক কথায়, তাদের কাছে যেকোনো প্রতিবাদও হয়ে উঠছে জীবনের অন্যান্য মুহূর্তের মতোই ধারণ করে রাখার মতো একটি বিষয়।

পুলিশি দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখনও ভিডিও করা থামাননি ছবি। পরবর্তীতে কিছু মন্তব্যকারী তার বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাকে কেবল 'কনটেন্ট' বানানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন।

ওই সময়ের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে ছবি বলেন, "তখন আমার শরীরে প্রচুর অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ হচ্ছিল, আমি ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। ভয়ের মুখে দাঁড়িয়ে হেসে ফেলা অথবা কান্না করা—আমার সামনে কেবল এই দুটি পথই খোলা ছিল।"

সহিংস পরিস্থিতিতেও এভাবে অনবরত ভিডিও ধারণ করে যাওয়ার—এই প্রবণতাটি এখন সারাবিশ্বেই খুব সাধারণ একটি চিত্র হয়ে উঠেছে বলে জানান নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল নৃবিজ্ঞানী পায়েল অরোরা। স্মার্টফোন কীভাবে সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস সংগ্রাহক বানিয়ে তুলেছে, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এরা এমন সব মুহূর্ত ধারণ করে রাখছে যা নাহলে হয়তো হারিয়েই যেত।

তিনি বলেন, "একটি আন্দোলনের ছবি বা ভিডিও তুলে রাখার কাজটির নিজস্ব একটি সার্থকতা রয়েছে। তাদের বার্তাটি মূলত এমন: 'এটা ঘটেছিল। আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এবং আমরা এটাকে মনেও রাখব।'"

তাদের এই ব্যঙ্গ ও রসিকতার ধরনের মধ্যেও একটি নিজস্ব প্যাটার্ন রয়েছে। রাজপথে কাটানো দিনটিকে সেখানকার কোনো তরুণ আন্দোলনকারীই 'মজার' কিছু ছিল বলে মনে করেননি। তারা বরং টিয়ার গ্যাস, বেধড়ক লাঠিচার্জ এবং একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলকে এভাবে মুহূর্তে বিশৃঙ্খলায় রূপ নিতে দেখার সেই বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতার কথাই বলেছেন। এসব রসিকতা তৈরি হয়েছে ঘটনার বেশ পরে—সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাকে মানসিকভাবে সয়ে নেওয়ার একটি স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপায় হিসেবে।

হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন স্কুলের 'ডিজিটাল ন্যারেটিভস সেন্টার'-এর পরিচালক নিশান্ত শাহ বলেন, মানুষ প্রায়শই এই কৌতুককে ঘটনার প্রতি তাদের উদাসীনতা বলে ভুল করে বসে। বাস্তব সত্য হলো, এটি সম্পূর্ণ বিপরীত ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, "রাজনীতি তো দৈনন্দিন, আবেগ ও অভিজ্ঞতার বিষয়।"

প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ইতিহাসে কৌতুক ও ব্যঙ্গ বরাবরই একটি বড় অংশ জুড়েই ছিল। এটি আন্দোলনকারী মানুষের সঙ্গে আপামর জনতার এক ধরনের সংহতি বা সেতুবন্ধন তৈরি করে, মানসিক চাপ কমায় এবং ভয়ের মুহূর্তগুলোতে মানুষকে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

নিশান্ত শাহ বলেন, "এমনকি যখন সংগ্রামের উদ্দেশ্য বা কারণও খুবই নির্মম হয়ে ওঠে এবং লড়াইটাও চরম কঠিন হয়ে ওঠে; তখনও আনন্দ, হাসি, গান ও আশার আলো থেকে যায়। এই উপাদানগুলো ছাড়া কোনো আন্দোলন দীর্ঘদিন টিকতে পারে না।"

২১ বছর বয়সী তরুণ ঈশান (ছদ্মনাম) জীবনের প্রথমবারের মতো কোনো আন্দোলনে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছিলেন। যখন হঠাৎ কাছেই টিয়ার গ্যাসের শেল এসে পড়ে, তখন তিনি এক মুহূর্তের জন্য ভেবেছিলেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করবেন। কিন্তু তা না করে পকেট থেকে নিজের ফোনটি বের করে আনেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি যে রিলটি পোস্ট করেন, তাতে রাস্তার ওপর সাদা ধোঁয়া উড়ে যেতে দেখা যায় এবং ভিডিওর ওপরে একটি সহজ ক্যাপশন ছিল: "দিল্লি পুলিশ জানে না যে আমি যমুনা পারের ছেলে।"

দিল্লির অধিকাংশ বাসিন্দার কাছে এই রসিকতার অর্থ বুঝতে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। 'যমুনা পার'—যার আক্ষরিক অর্থ যমুনা নদীর ওপারে—বলতে দিল্লির পূর্ব দিকের এলাকাগুলোকে বোঝায়। নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে থাকা ও অবহেলিত এসব অঞ্চল নিয়ে প্রায়শই ঠাট্টা-তামাশা বা ট্রোল করা হয়। ঈশান হেসে বলেন, "ওখানকার দুর্গন্ধ টিয়ার গ্যাসের চেয়েও মারাত্মক!"

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওখানে কিছুই ঘটেনি এমন ভান করার জন্য এই কৌতুক করা হয়নি। ঈশান বলেন, "ভয় যেন সেই দিনের স্মৃতিকে নিজ কব্জায় নিতে না পারে—সেটি নিশ্চিত করতেই এমন কৌতুক করেছি।"

আর যুগ যুগ ধরে যেকোনো আন্দোলনই একই ফ্রেমে ভয় ও আশাকে ধারণ করার পথ খুঁজে নিয়েছে।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিল গান ও উদ্দীপনামূলক বক্তৃতা। ট্রেড ইউনিয়নগুলো ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা করেছে। ছাত্র আন্দোলনগুলোতে ছিল আকর্ষণীয় পোস্টার ও পথনাটক। আর সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী আন্দোলনে দেখা গেছে দেয়ালচিত্র ও সংবিধান পাঠ, ঠিক যেমন কৃষক আন্দোলন পরিচিতি পেয়েছিল ট্রাক্টর র‍্যালি ও দিল্লির সীমান্ত থেকে লাইভস্ট্রিম করার মাধ্যমে।

সিজেপির অধিকাংশ আন্দোলনকারীর মতোই ঈশানও ইন্টারনেট যুগে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের নিজস্ব ভাষায় কথা বলছিলেন। নিশান্ত শাহ যুক্তি দেন, তাদের এই ভাষা বা মাধ্যমকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বা হালকা বলে উড়িয়ে দেওয়ার অর্থ হলো— তারা আসলে কী করছেন তা না বোঝা।

নিশান্ত বলেন, "আমরা প্রায়শই নতুন প্রযুক্তিকে পুরনো চিন্তাভাবনার আলোকেই বোঝার ভুলটি করে থাকি।" তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি মিম কেবল আজকের যুগের কোনো রাজনৈতিক পোস্টারের রূপান্তর নয়। মানুষ যখন এটিকে নতুন করে তৈরি করে, প্যারোডি বানায় এবং অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেয়—তখন এটি নতুন অর্থ লাভ করতে থাকে। একটি মিম শেয়ার করাও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের একটি অংশে পরিণত হয়।

প্রকৌশলবিদ্যার ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মানিতের ক্ষেত্রেও ঠিক এটিই ঘটেছিল। এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম আন্দোলন। ওখানে যাওয়ার পর ভিডিও করবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন তিনি।

মানিত বলেন, "আমি বেশ ভয় পেয়েছিলাম।" তবে আশপাশে তাকিয়ে তিনি দেখেন, "সবাই ভিডিও রেকর্ড করছে, ক্যামেরার সামনে কথা বলছে, একেবারেই নিজেদের স্বাভাবিক মেজাজে রয়েছে (বা থাকার চেষ্টা করছে)। তাই আমিও আমার এক বন্ধুকে আমার একটি ভিডিও রেকর্ড করতে বলি।"

প্রথম দর্শনে ভিডিওটি তার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট করা ওয়ার্কআউট ভিডিওগুলোর মতোই মনে হচ্ছিল। কেবল ভিডিওর শেষ ফ্রেমে দেখা যায়, তার ফিটনেস অ্যাপে রেকর্ড হওয়া দূরত্বের হিসাবটি আসলে এসেছে পুলিশের লাঠিচার্জের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ দৌড়ানোর ফলে! হেসে মানিত বলেন, "আমি পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেয়েছি। দৌড়াতে দৌড়াতে শেষ পর্যন্ত সেদিন আমার ওয়ার্কআউটও সেরে ফেলেছি!"

মানিতের মতে, এই ব্যঙ্গাত্মক মোচড়টিই ছিল ভিডিওর মূল বিষয়।

তিনি বলেন, "সব তরুণ তো নিয়মিত খবর পড়ে না।  তাই এই কৌতুক ও রসিকতা যদি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সবার কাছে সহজবোধ্য করে তোলে, তবে কেন আমরা তা ব্যবহার করব না?"

Related Topics

টপ নিউজ

ককরোচ জনতা পার্টি / বিক্ষোভ / ভারত / মিম / রিলস / সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম / ব্যঙ্গ / রসিকতা

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: সংগৃহীত
    অপ্রতিম হত্যা: আটক তুহিনের বাড়ি থেকে সেই আইফোন উদ্ধার করল পুলিশ
  • ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত
    অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে মিলল একাধিক আলামত, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে: পুলিশ
  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি
  • ছবি: সংগৃহীত
    নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গলে মিলল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের মরদেহ 
  • শিশু অপ্রতিম ও এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
    শিশু অপ্রতিম হত্যা: এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী—কাঁদলেন এমপি মনিরুল
  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
    দেশে শীঘ্রই ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

Related News

  • আবারও ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও রাশিয়ার তেলের দ্বিমুখী চাপে ভারত
  • ‘স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব’: ঢাকার ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা নিয়ে নয়াদিল্লি
  • পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্বে উত্তাল ভারতের ঐতিহ্যবাহী টাটা গ্রুপ
  • যুক্তরাষ্ট্রের ১০০% শুল্কের হুমকির মধ্যেই জুলাইয়ে ভারতের অর্ধেকের বেশি তেল এসেছে রাশিয়া থেকে
  • নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

Most Read

1
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

অপ্রতিম হত্যা: আটক তুহিনের বাড়ি থেকে সেই আইফোন উদ্ধার করল পুলিশ

2
ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে মিলল একাধিক আলামত, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে: পুলিশ

3
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
বাংলাদেশ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি

4
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

নিখোঁজের একদিন পর জঙ্গলে মিলল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ছেলের মরদেহ 

5
শিশু অপ্রতিম ও এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

শিশু অপ্রতিম হত্যা: এমপি হিসেবে আমি লজ্জিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী—কাঁদলেন এমপি মনিরুল

6
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
অর্থনীতি

দেশে শীঘ্রই ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net