শ্রীলঙ্কার কারাগারে বন্দিদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কারা কর্মকর্তাসহ নিহত ২৫, আহত শতাধিক
শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে বন্দিদের দুই পক্ষের মধ্যে দুই দিনব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন। সোমবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির কারাগারে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ এটি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে গত রবিবার এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মূলত সাজাপ্রাপ্ত স্থায়ী কয়েদি এবং অস্থায়ীভাবে আটক বন্দিদের মধ্যে এই বিবাদ শুরু হয়। কারাবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই কারাগারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ বন্দি রয়েছে।
রবিবার প্রথম দফার সংঘর্ষে দুই বন্দি নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন। তবে সোমবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আরও ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন কারা কর্মকর্তাসহ আরও ২৩ জন প্রাণ হারান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিসোঁটাধারী দাঙ্গা পুলিশ এবং বিশেষ বাহিনীকে দ্রুত কারাগারে পাঠানো হয়। আহত হওয়া অনেক বন্দিকে পুলিশের বাসে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বর্তমানে কারাগারের ভেতরে তল্লাশি ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সহিংসতার খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনরা ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সেখানে বেষ্টনী তৈরি করে তাদের সরিয়ে দেয়।
কারাবিভাগের মুখপাত্র চামিকা গজানায়েক সাংবাদিকদের বলেন, "সকালের নাস্তা পরিবেশনের সময় এই মারামারি শুরু হয়। কারা কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে বন্দিরা তাদের ধাওয়া করে কারাগারের গেট পর্যন্ত নিয়ে আসে এবং জেল ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে।" এই সহিংসতার পেছনে মাদক চোরাচালান সংশ্লিষ্ট কোনো কারণ থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করলেও তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক ডা. পুষ্প গামলাথ রয়টার্সকে বলেন, "হাসপাতালে প্রায় ১০০ জন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের শরীরে গুলির চিহ্ন এবং বিভিন্ন জখম রয়েছে।"
এছাড়া, ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার বারুনা গামাগে জানিয়েছেন, পুলিশকে সহায়তার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে কারাগারের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় সাঁজোয়া যানসহ বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্যকে কারাগারের চারপাশে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
কারাগার পরিদর্শনের পর দেশটির আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী হর্ষনা নানায়াক্কারা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, "কিছু অস্ত্র বন্দিদের হাতে চলে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে পুরো কারাগার আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরা তদন্ত শুরু করেছি।"
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কায় এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে কারাগারে সংঘর্ষে ১১ জন এবং ২০১২ সালে কলম্বোর একটি কারাগারে সংঘর্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।
