যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা চিঠি রেখে গেলেন ইরানি ফুটবলাররা, স্মরণ করলেন মিনাবের শিশুদের
লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ খেলার পর, ইরান সেই শহরের উদ্দেশ্যে একটি বিদায়ি নোট বা বার্তা রেখে গেছে। এ বার্তার মধ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের সময় একটি বিদ্যালয়ে হওয়া ভয়াবহ বোমা হামলার কথাও বলা হয়েছে।
ইরান রোববার বিকেলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ০-০ গোলে ড্র করে নিজেদের আরেকটি ম্যাচডে পর্যন্ত টিকে থাকা নিশ্চিত করেছে। সেখানে তারা সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলবে।
কিন্তু দেশ ত্যাগের আগে দলটি ড্রেসিং রুমে একটি হাতে লেখা নোট রেখে শহর এবং তাদেরকে সমর্থন করা ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে গেছেন।
বার্তার শুরুতে লেখা হয়েছে, 'হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।'
তবে এতে হ্যাশট্যাগ #১৬৮ এবং #মিনাব-ও অন্তর্ভুক্ত ছিল—যা মিনাব শহরে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে একটি স্কুলে হামলায় এক প্রতিবেদনে উল্লেখিত মৃত্যুর সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে।
যদিও অন্য প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ১৫৬ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই তা হলো ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।
নোটে আরও বলা হয়েছে, 'আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।'
'লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ এবং সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।'
'সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।'
এই বিশ্বকাপে অভিবাসন কর্মকর্তাদের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি ইরানকে।
এর ফলে ইরানকে তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হতে হয়েছে।
ইরানের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে তারা ম্যাচের আগের দিনই লস অ্যাঞ্জেলেসে উড়ে আসে। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
দলের কিছু কর্মকর্তা ও সহায়ক স্টাফকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। খেলোয়াড় মেহদি তোরাবি নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর তার একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে আমেরিকার কনস্যুলেট থেকে নতুন ভিসা নিতে হয়েছে।
ইরানের কোচ আমির গালেনোই এই বিধিনিষেধের কারণে তার দলকে 'পুরো বিশ্বকাপে সবচেয়ে নিপীড়িত দল' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
