ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কিছু আটকে থাকা সম্পদ ছাড় হয়েছে: আরাগচি
সুইজারল্যান্ডে প্রথম দফার বৈঠকের শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল বাজেয়াপ্ত সম্পদের একাংশও ছাড় করা হয়েছে। লেবানন যুদ্ধ অবসানে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে আরাগচি আরও বলেন, 'ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।'
তবে এই বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি ওই পোস্টে। এই আলোচনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে আরও লিখেছেন, পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের দৌত্যে 'লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।'
আরাগচি বলেছেন, তাদের সামনে 'প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা' হতে যাচ্ছে লেবানন 'ডি-কনফ্লিকশন সেল'। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে একমত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রথম দফার বৈঠকে 'আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি' হয়েছে: কাতার ও পাকিস্তান
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি 'ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে' অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে 'আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও' হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'মধ্যস্থতার ওপর রাজনৈতিক নজরদারি' অটুট রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি (গঠনে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে রিপোর্ট করবেন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠন করা হবে।
বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে এই কমিটি। সেই লক্ষ্যে এ সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে 'সমস্ত' অমীমাংসিত ইস্যুতে কারিগরি আলোচনা চলবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে যুক্ত করে একটি 'ডি-কনফ্লিকশন সেল' গঠনে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীন বৈঠক হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলে আছেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
এদিকে বৈঠক শুরু হওয়ামাত্রই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল ও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানকে বেশ কয়েকটি হুমকি দেন।
প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই হুমকিকে প্রত্যাখ্যান করেন ইরানি কর্মকর্তারা, তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও তারা বিষয়টি তোলেন। তারা বলেন, ট্রাম্পের এই আচরণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আলোচনা চলাকালীন কোনো পক্ষই একে অপরকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না।
ইরানের কর্মকর্তারা সফরে থাকা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ট্রাম্পের ওই প্রকাশ্য হুমকির প্রতিবাদে তারা বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করছেন। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র ও একজন মার্কিন কূটনীতিক জানান, বাস্তবে তা ঘটেনি; সারা দিনজুড়েই আলোচনা পুরোদমে চলেছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশের একটি সূত্র জানিয়েছে, লেবানন নিয়ে আলোচনা বেশ 'উত্তপ্ত' ছিল।
একজন মার্কিন কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকের মূল মনোযোগ ছিল 'পারমাণবিক চুক্তির প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়'। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও তা বন্ধ করে দেওয়া নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারিও আলোচনায় আসে।
ওই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, 'আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, হরমুজ প্রণালি যেন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকে। এই ফ্রন্টে আমরা বেশ ভালো অগ্রগতিও করেছি।'
ওই কূটনীতিক আরও বলেন, আলোচনা যে গতিতে এগিয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা বেশ সন্তুষ্ট। 'মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকেই জট কাটাতে সাহায্য করছেন। আমাদের মনে হচ্ছে, প্রথম দফার এই আলোচনা আগামী দিনে পারস্পরিক আস্থা তৈরির শক্ত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।'
