যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তিতে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা রোববার জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করতে, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।
এই চুক্তির পর বিশ্বনেতারা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র:
'মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই চুক্তিতে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী আলোচনার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।'
ই৪ (ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি) নেতাদের যৌথ বিবৃতি:
'ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা উচিত নয়। এই বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।'
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ:
'অস্ট্রেলিয়া সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই চুক্তিকে স্বাগত জানায়। অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে লেবাননসহ এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং সংঘাত অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, এর প্রভাব তত ভয়াবহ হবে। নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে এবং একটি স্থায়ী চুক্তি নিশ্চিত করতে এখন সংযম বজায় রাখা এবং গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।'
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার:
'আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে হরমুজ প্রণালিতে এখন অবশ্যই টোলমুক্ত অবাধ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে... আর ইরানের হাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না।'
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ:
'আমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিকে স্বাগত জানাই। বেশ কয়েকটি অংশীদারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই ফলাফল এসেছে। আমি সংঘাতে লিপ্ত সব পক্ষকে দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি। এই চুক্তির মাধ্যমে অবিলম্বে এবং শর্তহীনভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।'
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস:
'আমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে স্বাগত জানাই এবং এই কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানি পক্ষকে অভিনন্দন জানাই। এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরও সুরক্ষিত করার পথ তৈরি করতে পারে। এখন দৃঢ়তার সঙ্গে এটি বাস্তবায়ন করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি:
জাপান 'দৃঢ়ভাবে আশা করে' যে, 'হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাস্তবেই অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ও অন্যান্য বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।'
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স:
'বিশ্বের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং স্থিতিশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি যুগান্তকারী ও গঠনমূলক পদক্ষেপ... দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আলোচনা ও কূটনীতিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।'
