ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, আমাদের জনাব মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সুতরাং, সবকিছুতে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।'
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিসের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ অনুযায়ী নোটিস দেন।
নোটিসে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া এবং ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান বিরোধী দলীয় নেতা।
এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা দাবি করেনি, তারা ব্যাংকটিকে ন্যায়নীতির পথে ফেরানোর কথা বলেছে। এই ন্যায়নীতির পথে ফেরত আসার জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ব্যাংকটির বৈধ গ্রাহকদের কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি অনুযায়ী বৈধ গ্রাহকদের ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা দেওয়া হবে। তবে ব্যাংকটিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে আন্দোলন করা হচ্ছে। পর্দার আড়ালে বা পর্দার বাইরে আন্দোলন করে বেশি এগোনো যাবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থেকে বোর্ড অব ডিরেক্টর, সবাইকে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক অব্যাহতি দিতে পারে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে হলে আইন পরিবর্তন করে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নাবিলগ্রুপসহ যারা টাকা নিয়ে ফেরত দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। ৯ হাজার কর্মীকে নিয়ম না মেনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-আরডিএসের অর্থ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটি 'ফ্ল্যাগশিপ' প্রকল্প। এই প্রকল্পে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয়, যেখানে নারী গ্রাহকের সংখ্যা বেশি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের আগে অনেক নারীকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আরডিএস প্রকল্পে আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ অগাস্ট ২০২৪-এর পর নির্বাচনের আগে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর কোনো হদিস নেই।
