হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ‘অক্ষত’ অবস্থায় ২ পাইলট উদ্ধার
হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক 'অ্যাপাচি' সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কপ্টারে থাকা দুই পাইলটই অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে এনবিএ ফাইনালসের তৃতীয় খেলা দেখে ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করেন।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, 'পাইলটরা ভালো আছেন, কেউ আহত হননি। আমরা আগামীকাল এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করব, তবে পাইলটরা ভালো আছেন।'
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানায়, সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে কপ্টারটি শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে নাকি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাধারণত এই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলোতে দুজন পাইলট থাকেন।
হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে দাবি করে, ওমান উপসাগরে ইরানগামী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে তারা অচল করে দিয়েছে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড়ে যাওয়া একটি এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট ফাইটার জেট থেকে ওই জাহাজটি লক্ষ্য করে 'প্রিসিশন গাইডেড' ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। মূলত মার্কিন বাহিনীর দিকনির্দেশনা অমান্য করায় জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং রুম লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সেন্টকম বলে, 'ম্যারিভেক্স আর ইরানের দিকে যাচ্ছে না।'
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে গত প্রায় দুই মাস ধরে চলা মার্কিন নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির খবরের মাঝেই গতকাল ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্পের অনুরোধে দুই পক্ষই হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, 'উভয় পক্ষ, ইসরায়েল এবং ইরান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি করতে চাচ্ছে! 'শান্তি'র বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে চলেছে, যদি না মূর্খতা বা নির্বুদ্ধিতা এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।'
