পুতিনের কাছে বার্তা পৌঁছাতে রুশ ধনকুবের আব্রামোভিচের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ধনকুবের এবং চেলসি ফুটবল ক্লাবের সাবেক মালিক রোমান আব্রামোভিচ কিয়েভে তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ক্রেমলিনে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
স্কাই নিউজের সঙ্গে কথোপকথনকালে জেলেনস্কি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন, এই বিলিয়নিয়ার কিয়েভ সফর করেছিলেন এবং কোনো না কোনোভাবে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জেলেনস্কি বলেন, 'তিনি [আব্রামোভিচ] কিয়েভে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে আমি সরাসরি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমি আপনার কাছ থেকে একটি বার্তা নিয়ে [রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির] পুতিনের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।'
জেলেনস্কি আরও বলেন, 'কিন্তু তিনি বলেছিলেন, এটি নিয়ে কোনো ধরনের প্রকাশ্য আলোচনা করা যাবে না, কাজটা নীরবে করতে হবে।'
আব্রামোভিচের মাধ্যমে পুতিনকে পাঠানো নিজের বার্তা সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেন, 'আপনারা আমাদের ভূখণ্ডে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। আমরা আমাদের ভূখণ্ড ছেড়ে যাব না। আমরা আপনাদের বিজয়ী হতে দেব না।'
তিনি আরও বলেন, তিনি আবারও পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের অনুরোধ জানান।
জেলেনস্কি বলেন, এটি কোনো 'গোপন বৈঠক ছিল না'।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ানরা জানতে চেয়েছিল কিয়েভ কী করতে চাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য সরকার আব্রামোভিচের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির মন্ত্রীরা অভিযোগ করেছেন, পুতিন সরকারের সঙ্গে তার 'সুস্পষ্ট যোগাযোগ' রয়েছে।
তবে কিয়েভে করা বৈঠক নিয়ে আব্রামোভিচ কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর প্রথম সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ আলোচনায় তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন।
পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কিয়েভ দনবাস অঞ্চল না ছাড়া পর্যন্ত রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তুত নয়। দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে দনবাস গঠিত।
রোববার লন্ডনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। সেখানে রাশিয়ার শক্তিশালী হাইপারসনিক ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর 'জরুরি প্রয়োজন' নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, 'নেতারা ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন বাড়ানো এবং যৌথভাবে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা উন্নয়নের জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন।'
তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে আর্থিক বা অন্য কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। সোমবার জেলেনস্কির সঙ্গে রাজা তৃতীয় চার্লসের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে। ফলে বেসামরিক নাগরিকরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়েছেন। যদিও কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর বেশিরভাগ ড্রোন প্রতিহত করছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রের অন্য অংশে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণাগারে একটি রুশ ড্রোন আঘাত হানে। হামলার সময় স্থাপনাটি খালি ছিল। তবে সংবেদনশীল এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা মস্কোর একটি সরাসরি বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের দূরপাল্লার আকাশ হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হয়েছে।
রোববার রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর একাধিক দফা ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র হামলা চালায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
ঝাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি গণপরিবহন স্টপেজে গোলাবর্ষণে অন্তত দুজন নিহত হন। একই এলাকার কাছে ড্রোন হামলায় ৫৬ বছর বয়সী এক মিনিবাসচালক নিহত হন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মধ্য ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে পৃথক এক হামলায় ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। অঞ্চলটির গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু বলেছেন, প্রতিবেশী ইউক্রেনের যুদ্ধ দেখিয়েছে যে তার দেশের অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের প্রয়োজন রয়েছে। এসব ড্রোন উৎপাদন সহজ করতে নতুন আইন প্রয়োজন।
২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ পেতে চাওয়া মলদোভা এরই মধ্যে একাধিকবার রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করা বা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ার কথা জানিয়েছে।
গত মাসে রোমানিয়ার গালাতি শহরে একটি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায় বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কঠোর সমালোচক সান্দু।
মলদোভা ও ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত ওই শহরের একটি বাড়িতে ড্রোনের আঘাতে দুইজন আহত হন।
