যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে ইরানের সম্পদ মুক্ত করা হবে না; তারা ভালো আচরণ করলে আলোচনা শুরু করব: ট্রাম্প
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত তেহরানের অবরুদ্ধ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (৩১ মে) এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এমনটা জানান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন অবরুদ্ধ তহবিল ছাড় করার বিষয়টি কেবল একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পরই বিবেচনা করা হবে। ইরানকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি, অন্যথায় আমি তাদের উড়িয়ে দেব।'
আলোচনার শর্ত নিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, 'তারা যদি ভালো আচরণ করে, ভালো কাজ করে, তবে আমরা আলোচনা শুরু করব।'
উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরান ধীরে ধীরে এই তহবিল ফেরত পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরান এখন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড়ের দাবি করছে; যার অর্ধেক চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবং বাকি অর্ধেক পরবর্তী ধাপে দেওয়া হবে।
কূটনৈতিক স্তরে ট্রাম্প চুক্তি সফল হওয়ার দাবি করলেও ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, 'আলোচনা এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।' তিনি এই তহবিল ছাড় করার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি 'বিশ্বাসের পরীক্ষা' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দফা আকস্মিক সামরিক হামলা এবং ট্রাম্পের অস্পষ্ট নীতির কারণে ইরানি কর্মকর্তারা এই শান্তি আলোচনা নিয়ে আগে থেকেই বেশ সতর্ক ও সন্দিহান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনির সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন হামলায় খামেনি আহত হওয়ার পর থেকে তিনি আর জনসমক্ষে আসেননি। ট্রাম্প তার অবস্থান সম্পর্কে বলেন, 'তিনি কোথায় আছেন তা আমি জানি কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে আমি যে জানি, তার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।'
এদিকে লেবানন সংকট নিয়ে ট্রাম্প বলেন, লেবানন যেন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হয়, এমন কোনো 'দাবি তিনি করছেন না'। ইসরায়েল কর্তৃক লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা এই শান্তি আলোচনাকে বারবার ব্যাহত করছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, লেবাননে চলমান এই লড়াইয়ের জন্য তারা সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহকে দায়ী করছেন।
