সাতক্ষীরায় সরকারি খাল দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ইউপি সদস্যসহ আহত ১৩
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি খালের দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও ইউপি সদস্যসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের খুঁটিকাটা-কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের 'সংক্রান্তির খাল' এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারি ওই খালে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মাছ ধরতে গেলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম (৩৩), বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন (৬০), বিএনপি কর্মী কবির হোসেন (২৬), শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদ (৩২), শিবির কর্মী আরাফাত হোসেন (২৭), আক্তার হোসেন (২৬), নাজমা খাতুন (২২), মোমিন মোড়ল (৬৫) ও লায়লা বেগম (৬৫)। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াত নেতা শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী শুক্রবার সকালে সংক্রান্তির খালে জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৩০-৩৫ জন নেতা-কর্মী মাছ শিকারে বাধা দিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির উত্তেজিত কিছু কর্মী হাসপাতাল এলাকা থেকে শিবির কর্মী আব্দুল্লাহ মামুন সাদকে ধাওয়া করে রাস্তা থেকে ধরে মারধর করে।
সংঘর্ষের বিষয়ে জামায়াত নেতা শাহিন হোসেন বলেন, "চৈত্র মাস শেষ হতেই খালের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে সরকার তাকে ইজারা না দেওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল সেখানে মাছ চাষ করছিল। এলাকার দরিদ্র মানুষরা শুক্রবার ওই খালে মাছ শিকারে গেলে আজহারুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে।" তিনি দাবি করেন, হামলায় তাদের চারজন আহত হয়েছেন এবং আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাদের কর্মী আব্দুল্লাহ সাদকে কুপিয়েছে বিএনপি কর্মীরা।
অন্যদিকে, ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "মেয়াদ শেষ হলেও আমি পুনরায় ইজারার জন্য আবেদন করেছি। আগে থেকে খালে মাছ ছাড়ায় অন্যদের মাছ ধরায় বাধা দিয়েছি। কিন্তু জামায়াত নেতা শাহিনের নেতৃত্বে রড, শাবল ও দা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ৯ জনকে আহত করা হয়েছে।"
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবির বলেন, "স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন আজহারুল বিএনপির সমর্থক। তার ইজারা নেওয়া খালে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মাছ ধরতে গেলে বাধার মুখে তারা বিএনপি নেতা-কর্মীদের কুপিয়েছে।"
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কয়েকজনের রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দু'জনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সরকারি একটি খালের দখল নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানেও উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"
