আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের এমডির বৈঠক, কক্ষে ঢুকে পড়লেন আন্দোলনকারীরা
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বোর্ড সভা আয়োজনকে কেন্দ্র করে সোমবার (১ জুন) উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসেনের বৈঠকের সময় কক্ষে ঢুকে পড়েন 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর সদস্যরা।
এসময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যাংকটির এমডি আলতাফ হোসেনকে চাপ দিয়ে ভার্চুয়ালি বোর্ড সভা করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ফোরামের সদস্যদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেনের বৈঠক চলাকালে তারা কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষে ঢোকার আগে সেখানে পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজন সদস্য এবং সাদা পোশাকধারী আরও কয়েকজনকে দেখা যায়। তবে ফোরামের সদস্য ও সাংবাদিকরা প্রবেশের আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন।
এদিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আলতাফ হোসেনের কক্ষের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাপে বোর্ড সভার আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনাকে ২০১৭ সালে ওয়েস্টিন হোটেলে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন।
এ সময় বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা ভেতরে ঢুকে এমডির সঙ্গে কথা বলেন।
এমডি বলেন, 'আজ অনলাইনে পর্ষদ বৈঠক করার জন্য অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে কার্যালয়ে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি।'
ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'বোর্ড মিটিং করার জন্য এক রকমের চাপ দেওয়া হয়েছে। ভার্চুয়ালি বোর্ড সভার জন্য চেয়ারম্যানের বাসায় আইটি থেকেও একটি দলকে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা যায়।'
সোমবার বেলা আড়াইটায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আন্দোলনের চাপে বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। ভার্চুয়ালি বোর্ড সভা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর আগে সকালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন সাধারণ গ্রাহকেরা। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন আহত হন।
সোমবারই নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের প্রথমবারের মতো ব্যাংকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তার পদত্যাগের দাবিতে সকাল থেকেই 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর ব্যানারে শত শত গ্রাহক প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ 'এস আলমে'র ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
