ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়টি 'গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা' করছি: ট্রাম্প
আবারও দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিষয়টি তার প্রশাসন 'গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা' করছে।
এর আগেও ট্রাম্প কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা ও কিউবার মতো বিভিন্ন সার্বভৌম দেশ ও অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কখনও তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
তার সাম্প্রতিক এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল যখন ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান চালিছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন তেল কোম্পানির সহায়তায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর ফক্স নিউজের সংবাদদাতা জন রবার্টস জানান, ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন তিনি এখন 'ভেনেজুয়েলাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার পদক্ষেপের কথা গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন'।
মাদুরো গ্রেপ্তারের পর থেকে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা নিয়মিত কারাকাস সফর করছেন। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও খনিজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির চেষ্টা করছেন এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা চালাচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে ঝুঁকিতে ফেলায় এসব আলোচনা আরও দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন ও ভেনেজুয়েলার সম্মতি ছাড়া দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ঘোষণা করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গে ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় নৌবহরগুলোর একটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি মাদক পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানের বিরুদ্ধে বোমা হামলাও অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ছিল 'সামরিক মেধার অসাধারণ উদাহরণ'।
গত ১০ মে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'ভেনেজুয়েলা এখন খুব সুখী একটি দেশ। আগে তারা দুর্দশায় ছিল, এখন তারা ভালো আছে। দেশটি এখন ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে।'
ট্রাম্প আরও বলেন, 'সেখানে বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলন হচ্ছে, বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক রিগ নিয়ে।'
এদিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এখনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি। এতে সমালোচকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষিত লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে হোয়াইট হাউস। কারণ, ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভেনেজুয়েলা 'পরিচালনা' করবে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের রদ্রিগেজ বলেন, নির্বাচন 'কোনো একসময়' অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি উপদেষ্টা জ্যারেড এজেন পলিটিকো-কে বলেন, 'আমরা এখন স্থিতিশীলতার পর্যায়ে আছি। মূল লক্ষ্য হলো, জ্বালানি চুক্তিগুলো সচল করা এবং ভেনেজুয়েলার দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করা।'
মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র কারাকাসে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে। এছাড়া, গত মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচলও আবার শুরু হয়েছে।
