জানাজায় যাওয়ার অনুমতি মেলেনি, জেলগেটেই বাবার মরদেহ দেখলেন ছাত্রলীগ নেতা
বরিশালে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতা তার বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোল পাননি। তবে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাকে কারাগারের ফটকে বাবার মরদেহ কয়েক মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
গতকাল (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়ার্ড নং ১৫ ছাত্রলীগের সভাপতি আহসান শাহরুখকে তার বাবা মোহাম্মদ আবুল বাশারের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তারা প্যারোলের আবেদন করেছিলেন। তবে জেলা প্রশাসন সেই আবেদন অনুমোদন করেনি।
তাদের অভিযোগ, প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তারা উপ-কমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরে মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে তারা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে যান, যেখানে শাহরুখকে প্রায় পাঁচ মিনিটের জন্য বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর নিউ সার্কুলার রোডের গাজীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহরুখকে চলতি মাসের শুরুতে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার ছোট ভাই আল আমিন বলেন, 'ওকে তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের বাবা তাকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে তিনি মারা যান। আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে প্যারোলের আবেদন নিয়ে ডিসি অফিসে যাই, যাতে শাহরুখ জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারে। কিন্তু এটি রাজনৈতিক মামলা শুনে অনেকক্ষণ কেউ আমাদের সহায়তা করেনি। আমরা প্রায় দুই ঘণ্টা ডিসি অফিসের গেটের সামনে অপেক্ষা করেছি, কিন্তু কেউ আমাদের সঙ্গে দেখা করেনি।'
তিনি আরও বলেন, 'পরে বারবার অনুরোধের পর আমরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করি। তিনি জানান, প্যারোল দেওয়া সম্ভব নয়। বরং মরদেহ কারাগারের ফটকে নিয়ে যেতে বলা হয়। আমাদের কোনো উপায় ছিল না, তাই বাবার মরদেহ সেখানে নিয়ে যেতে হয়েছে, যাতে সে দেখতে পারে।'
প্যারোলের আবেদনকারী আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, 'আমরা প্যারোলের আবেদন করেছিলাম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি সম্ভব নয়। জেলগেটে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হবে।'
অতিরিক্ত জেলা হাকিম উপমা ফারিসা বলেন, 'আমার কাছে প্যারোলে মুক্তির একটি আবেদন আসে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক বরাবর ছিল। পরে আবেদনের বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানাই। স্যার অফিসে না থাকায় আবেদনটি হোয়াটসঅ্যাপে দেই। স্যার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেল গেটে দেখা করার সিদ্ধান্ত দেন। এখানে পুরো বিষয়টি স্যারই সিদ্ধান্ত নেন। পরে আমি সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্বজনদের জানিয়ে দেই।'
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা—সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ মনজুর হোসেন এবং জেলার মোহাম্মদ মাহবুব কবির—ফোন বা বার্তার কোনো জবাব দেননি। কারাগারের ফটকে উপস্থিত কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
