যুদ্ধের মধ্যেই মার্কিন সেনাপ্রধানসহ তিন জেনারেলকে বরখাস্ত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীনই মার্কিন সেনাপ্রধান (আর্মি চিফ অব স্টাফ) এবং আরও দুই জেনারেলকে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই রদবদল করা হয়। পেন্টাগন ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।
পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অবিলম্বে অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হেগসেথ। একই দিনে আরও দুই জেনারেলকে বরখাস্ত করা হয়েছে—সেনাবাহিনীর প্রধান চ্যাপলেইন মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র এবং আর্মি ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের একদিন পরই হেগসেথ এই পদক্ষেপ নিলেন। ওই ভাষণে ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা আরও তীব্র করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন যে দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) র্যান্ডি জর্জের বিদায়ের খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, 'জেনারেল র্যান্ডি এ জর্জ অবিলম্বে ৪১তম সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরে যাচ্ছেন। আমাদের জাতির প্রতি তার কয়েক দশকের সেবার জন্য প্রতিরক্ষা বিভাগ কৃতজ্ঞ।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, বৃহস্পতিবারের এই আকস্মিক ঘোষণায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব পুরোপুরি অপ্রস্তুত ছিলেন। প্রতিরক্ষা বিভাগের বাকি কর্মকর্তাদের মতো তারাও জনসমক্ষে ঘোষণার পরই জেনারেল জর্জের পদচ্যুতির কথা জানতে পারেন।
আরেকজন কর্মকর্তা জানান, জেনারেল জর্জ যখন হেগসেথের ফোন পান, তখন তিনি একটি মিটিংয়ে ছিলেন। পরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার কর্মীদের এই খবর জানান। খবরটি শোনার পর তার কর্মীরা বেশ 'নির্লিপ্ত' ছিলেন।
সেনাপ্রধান হিসেবে র্যান্ডি জর্জ আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ড্রিসকল হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তাকে নিজের জন্য হুমকি মনে করেন এবং তাদের মধ্যে প্রায়ই তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের একজন সদস্যকে এভাবে আকস্মিক ও জনসমক্ষে সরিয়ে দেওয়াটা তর্কের আর কোনো সুযোগ রাখেনি। অথচ র্যান্ডি জর্জের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনীই বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রধান দায়িত্বে রয়েছে।
চিফ হিসেবে জর্জ এই সক্ষমতা নিয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং হেগসেথকে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, 'এটা খুব ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় না।'
১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে কমিশন পাওয়া পদাতিক কর্মকর্তা র্যান্ডি জর্জ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের জ্যেষ্ঠ সামরিক সহকারী ছিলেন। অস্টিনের ঘনিষ্ঠ হওয়াটাই হেগসেথ ও তার বলয়ের কাছে জর্জের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে গণ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আগে থেকেই জল্পনা ছিল যে হেগসেথের জ্যেষ্ঠ সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস লা-নিভকে জর্জের স্থলাভিষিক্ত করা হতে পারে। বর্তমানে ভাইস চিফ অব স্টাফ হিসেবে লা-নিভই জর্জের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে পারেন।
লা-নিভ এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন অষ্টম সেনাবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ট্রুপস নিয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি ট্রাম্পের নজর কেড়েছিলেন।
সে সময় ট্রাম্প লা-নিভের প্রশংসা করে বলেছিলেন, 'এই মানুষটি কি একদম কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতো না?' ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে, তার সঙ্গে কেউ 'চালাকি' করতে পারবে না।
