১১ দলের জোটে ভাঙন, আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে বড় ধরনের ভাঙনের আভাস পাওয়া গেছে। জোটের অন্যতম শরিক দল 'বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন' এই মোর্চা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন সমঝোতা নিয়ে আজ বুধবার বিকেলে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ২টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'আজ ১৪ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় আন্দোলনরত ১১ দল ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।'
জোটের অভ্যন্তরে অস্থিরতা ও ভাঙনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বগুড়া-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূর মোহাম্মদের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। দুপুরে তিনি তার ভেরিফাইড প্রোফাইলে লেখেন, 'হ্যাঁ, সত্য এটাই— ১১ দলের সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে।'
নূর মোহাম্মদ তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ইসলামি আন্দোলন গত রাতে তাদের মজলিসে শুরা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের ডেকে মতামত নিয়েছে। সেখানে অধিকাংশ সদস্যই জোটের সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।
সমস্যার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে নূর মোহাম্মদ লেখেন, 'ইসলামী আন্দোলনকে সমঝোতায় চূড়ান্তভাবে ৪৫টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবি এখন ৬৫-৭০ আসনের মতো। নির্বাচন পরবর্তী সরকার কাঠামো নিয়েও স্পষ্ট ঘোষণা চায়। সরকার গঠিত হলে কে কোথায় থাকবে, এগুলো স্পষ্ট চায়। ইতোমধ্যে অনেককিছু স্পষ্ট করা হয়েছে, যেগুলো আরও স্পষ্ট করা দরকার, সেগুলো নিয়ে আলাপ হতে পারে।'
তিনি আরও জানান, ইসলামি আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের ওপর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। জোটের কারণে অনেক আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার করতে হওয়ায় ওই সব এলাকার নেতাকর্মীরা নাখোশ, যা শীর্ষ নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করছে।
এদিকে জোটের চলমান সংকটের মধ্যে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, 'বহু ত্যাগ এবং কুরবানির সিঁড়ি বেয়ে প্রিয় সংগঠন ও জাতি মহান আল্লাহ তাআলার একান্ত মেহেরবানিতে এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সময়টা জাতীয় জীবনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁক।'
বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'এ সময়ে সকলকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কারও ব্যাপারেই কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।'
