ভোটারদের সমর্থন পেতে আগামী সপ্তাহে বিভাগীয় ও জেলা সফর শুরু করছেন তারেক রহমান
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভাগীয় ও জেলা সফর শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ বিভাগেই সফর করবেন তিনি। রংপুর দিয়ে সফর শুরু করে ঢাকায় এসে তা শেষ করার কথা রয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে তুলে ধরবেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে সর্বস্তরে জনসমর্থনের জোয়ার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে দলটি।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। সফরের প্রথম দিনে তিনি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলা হয়ে বগুড়ায় পৌঁছাবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১২ জানুয়ারি তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুর সফর করবেন। ওইদিন তার ঠাকুরগাঁওয়ে রাত কাটানোর কথা রয়েছে।
পরদিন ১৩ জানুয়ারি তিনি পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা সফর করবেন। ওই রাতে তিনি রংপুরে অবস্থান করবেন। সফরের শেষ দিন অর্থাৎ ১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে যাত্রা শুরু করে বগুড়া হয়ে পুনরায় ঢাকা ফেরার মধ্য দিয়ে তার এই চার দিনের সফর শেষ হবে।
এদিকে আগামী ২১ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। ফলে বিএনপি জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে ২২ জানুয়ারির আগে বড় জনসভা বা সমাবেশের সুযোগ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিভাগীয় পথসভায় অংশ নেবেন। বিভাগের পথে বিভিন্ন জেলায় পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন এবং নির্বাচনী লিফলেট বিতরণ করবেন। তবে এখনো সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি নির্ধারিত হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরবর্তী কর্মসূচির শিডিউল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কাজ চলছে। খুব দ্রুতই কর্মসূচি ঠিক হবে।"
দলীয় সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে এই নির্বাচনী সফর শুরু হতে পারে। সফরকালে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান।
১১ জানুয়ারি বগুড়া সফরের পর ১২ জানুয়ারি সকালে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। পথে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। সুবিধাজনক সময়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারতেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, তারেক রহমানের জেলা সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপার্সনের মৃত্যুতে শোকের আবহও বিরাজ করছে। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা টিবিএসকে বলেন, "দলের চেয়ারপার্সন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, নেতাকর্মীরা শোকাহত। অন্যদিকে নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যানের বগুড়া সফর ঘিরে সব স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।"
বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল জানান, ১২ জানুয়ারি সকালে গণদোয়া শেষে তারেক রহমান শহরের সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি হয়ে মহাস্থানে হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাবেন। তবে আচরণবিধির কারণে গণসংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার এবং ২০ জানুয়ারি সিলেট সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার সফরকালে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে বলেন, "জেলা সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে সূচি চূড়ান্ত করে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানানো হবে।"
উল্লেখ্য, ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
