মিয়ানমারে আকাশচুম্বী খাদ্য ও জ্বালানির দর, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা ডব্লিউএফপি'র
প্রতিবেশী মিয়ানমারে গণতন্ত্রকামী জনতা দমনে মারমুখী জান্তা নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বাহিনী। গত সোমবার নিহত হয়েছেন এক ডজনের বেশি বিক্ষোভকারী। নির্মম শক্তিপ্রয়োগের পরেও অবশ্য রাজপথ উত্তপ্ত আন্দোলনের জোয়ারে।
এমন অবস্থায় দেশটিতে আগামীতে 'মারাত্মক' অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে বলে জানায় সংস্থাটি।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, ফেব্রুয়ারির পর দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুন ও আশেপাশের অঞ্চলে পাম তেলের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠসহ আরেক বড় শহর মান্দালয়ে গত তিন সপ্তাহেই চালের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ। সংঘাতপূর্ণ কাচিন রাজ্যের ভামো এবং পুতাও এর মতো কিছু ছোট শহরে চালের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির পর জ্বালানির দরও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে উত্তর রাখাইন রাজ্যে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।
"চলমান অচলাবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হলে এই সঙ্কটের অর্থনৈতিক দিকটি মারাত্মক আকার ধারণ করবে," বলে মন্তব্য করেন ডব্লিউএফপি'র মিয়ানমার প্রতিনিধি স্টিফেন অ্যান্ডারসন।
তিনি বলেন, "রাজনৈতিক অস্থিরতার আগে থেকেই মহামারির অভিঘাতে ভুগছিলেন সাধারণ মানুষ। তখনই বন্ধ হয় অনেক কারখানা আর সমাজের সবচেয়ে দরিদ্ররাই তাতে বেকার হয়ে পড়েন। এছাড়া, দেশটিতে আসা প্রবাসী আয়ও ছিল পড়তির দিকে।"
মহামারির আগে মিয়ানমারের প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৬টি পরিবারের কাছেই পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য ছিল না। তারপর কোভিডের কারণে দারিদ্র্য চিত্র আরও নাজুক হতে থাকে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে করা এক জরিপে দেখা যায়, প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটির রোজগার ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
এরপর সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল বৃহত্তর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। সর্বাত্মক শ্রম ধর্মঘটের অংশ হিসেবে কাজেও যোগ দিচ্ছেন না বিপুল সংখ্যক কর্মী। জান্তা সরকারের আইন অমান্য করার অংশ হিসেবেই চলছে এ অসহযোগ ধর্মঘট। পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনও নিয়েছে রক্তক্ষয়ী রুপ। সেনাবাহিনীসহ তাদের নিয়ন্ত্রিত পুলিশ ও আধা-সামারিক বাহিনী বিগত দুই সপ্তাহে বিক্ষোভ দমনে নিয়েছে নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের পথ। তার সঙ্গে চালাচ্ছে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন।
নৈরাজ্যের কারণে বাড়ির বাইরে কাজে যেতেও ভয় পাচ্ছে অনেকে। পরিবহন ও ব্যাংকিং এর মতো অর্থনীতির মূল কিছু খাত পৌঁছেছে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রান্তসীমায়।
ডব্লিউএফপি জানায়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় তারা ১২ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য আগাম প্রক্রিয়াজাত করে রাখছে।
জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি আগে থেকেই রাখাইন রাজ্যের মতো দেশটির সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে। ৩,৬০,০০০ রোহিঙ্গা এখান থেকে সাহায্য পায়। তবে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডারসন।
- সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
