সেপ্টেম্বর নাগাদ করোনার টিকা বাজারে আনছে ভারতীয় কোম্পানি

করোনাভাইরাসের স্থায়ী প্রতিষেধক বা টিকা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বাজার ছাড়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান কর্মকর্তা।
পুনে ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে মাত্র এক হাজার রুপি মূল্যের মধ্যে করোনাভাইরাসের টিকা বাজারে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশটির গণমাধ্যমে এনডিটিভি প্রকাশিত এক সংবাদে এসব কথা জানানো হয়।
গণমাধ্যমটিকে সিরাম ইনস্টিটিউট প্রধান আদর পুনেওয়ালা বলেন, 'মে মাসের শেষ দিকে উৎপাদন শুরুর ব্যাপারে আমরা অনেকদূর অগ্রগতি অর্জন করেছি। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে এই টিকার পরীক্ষা সফল হলে আমরা শিগগিরই তা ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সরবরাহ করতে পারব।'
বিশ্বের সিংহভাগ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা অবশ্য একটি কার্যকর টিকা উদ্ভাবন এবং তা উৎপাদনে সর্বোচ্চ দুই বছর থেকে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগবে বলে অনুমান করছেন।
এ ব্যাপারে আদর পুনেওয়ালা বলেন, অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার আগে আমরাও টিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগার অনুমান করেছিলাম। বিশেষ করে, গবেষণাগারে প্রতিষেধকটি ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা জানতেই এই দীর্ঘ সময় লাগত।
তিনি বলেন, '২০২১ সালে কোডাজেনিক্সসহ অনান্য মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় টিকা উৎপাদনে যেতে পারব- আমরা নিজেদের এই বলে সান্ত্বনা দিয়েছিলাম। তবে সৌভাগ্যক্রমে গত এক সপ্তাহ আগে আমরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হই। অক্সফোর্ডের জেনার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ইতোমধ্যেই মানবদেহে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তারা নতুন অনেক কিছু জানতেও পারছেন। মূলত এসব কারণেই আমাদের আশা বেড়েছে।'
এর আগে, ২৩ এপ্রিল থেকে অক্সফোর্ডের তৈরি প্রতিষেধকটি মানবদেহে প্রয়োগ করে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০টি টিকা তৈরির দৌড় চললেও সবার আগে অক্সফোর্ড টিকা বাজারে আনার ব্যাপারে আশাবাদী।
এর আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গবেষক দল প্রধান সারাহ গিলবার্ড টিকাটির কার্যকারিতার ব্যাপারে ৮০ ভাগ আত্মবিশ্বাসী বলে জানিয়েছিলেন।