সালিশ বৈঠকে চুরির দায়ে তিনজনকে শারীরিক নির্যাতন, চোখে চুন ঢালার অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির দায়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তে তিনজনকে শারীরিক ও চোখে চুন ঢেলে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে; এমনকি কুড়াল দিয়ে আঘাত কর একজনের পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে স্থানীয় লোকজন তাদের চুরির সন্দেহে আটক করার পর সকালে পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় নেতা-জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ নির্যাতন চালানো হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন—দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) ও ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাখানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার রাতে দোয়ারাবাজারের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরি করেন ছাতকের সোনাই মিয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে দুটি গরুসহ সোনাই মিয়াকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়।
সকালে খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সালিশে বসেন।
সালিশ বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম, ইউপি সদস্য হানিফ আলী, সামাদ মিয়া, জাকির হোসেন, রতন মিয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনের চোখে চুন দেওয়া হয়। আবু বাক্করের একটি পাও ভেঙ্গে দেয়া হয়। পরে পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
মাটিতে ফেলে তিনজনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, আটক তিনজন মাটিতে পড়ে আছেন। তাদের শরীর অনাবৃত এবং নাক, মুখ ও চোখে চুন লাগানো। একজনের পা রক্তাক্ত।
সালিশে উপস্থিতরা জানান, সালিশ চলাকালে তিনজনের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। কুড়াল দিয়ে আঘাত করে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। তিনজনের চোখে চুন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার এবং গরু দুটি জব্দ করে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম বলেন, 'চোরের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। গরু চুরি হয়, মসজিদের মাইকের ব্যাটারি ও আইপিএস চুরি হয়। আজকে এক চোরকে গরুসহ ধরে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। চোরদের পুলিশে দিলে জামিনে বের হয়ে যায়। তাই সালিস বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে—চোর ধরা পড়লে সাথে সাথে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, গণধোলাইয়ে মারা গেলেও সালিশ বোর্ড তা দেখবে।'
এ বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য হানিফ আলীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি এখন থানায় আছি, পরে ফোন দেন।' এ বলেই তিনি সংযোগ কেটে দেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, 'স্থানীয়দের হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
