কুষ্টিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পে রাতের খাবার খেয়ে অচেতন ১০ পুলিশ সদস্য
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে গতকাল শনিবার রাতের খাবার খাওয়ার পর ১০ পুলিশ সদস্য অচেতন হয়ে পড়েন। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খাবারে বিষক্রিয়া নাকি অন্য কোনো কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্প ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় ক্যাম্পে রান্নার কাজে নিয়োজিত এক নারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যরা হলেন— উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ইসলাম এবং কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম, মুকতার হোসেন, মোহাম্মদ আমিন, আমিনুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম। তারা সবাই পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত।
জেলা পুলিশ ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ক্যাম্পে অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন রাতের বিভিন্ন সময়ে খাবার খান। খাবারের মেনুতে ছিল সাদা ভাত, মুরগির মাংস ও সবজি। খাবার খাওয়ার পর তাদের শরীরে ঝিমুনি ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়েন।
রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ইউনিট-৩-এর প্রধান চিকিৎসক রেজাউল ইসলাম বলেন, 'পুলিশ সদস্যদের অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে খাবারে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। আপাতত তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।'
এদিকে ঘটনার পর সকালে পাটিকাবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে যান পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের একটি দল ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাটিকাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সালেহা খাতুন প্রায় দুই বছর ধরে ওই ক্যাম্পে রান্নার কাজ করেন। ঘটনার পর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, 'পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে সুস্থ আছেন। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'
