ইসরায়েলগামী ফ্লাইট ভূপাতিতের চেষ্টা: এয়ারলাইন ও সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ মামলা করবেন যাত্রীরা
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ককপিটের ভেতরে সম্প্রতি দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। উড্ডয়নরত অবস্থায় এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজটি ভূপাতিতের চেষ্টা করেন।
এদিকে, ফ্লাইটের অধিকাংশ যাত্রী ওই এয়ারলাইনসসহ ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইসরায়েলি ব্যবসায়িক সংবাদমাধ্যম ক্যালকালিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এ ওমানি সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটের ওপর হামলা চালিয়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে আহত পাইলট এবং কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রী হামলাকারীকে পরাস্ত করে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। ওই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে এবার কয়েক শ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে এই মামলা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও বিদেশি ফ্লাইটের নজরদারির দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলছে। শনিবার এই হামলা ঠেকানো যাত্রীদের একজন আসাফ রাজুয়ান ক্রু সদস্যদের প্রতি সন্দেহের কথা জানালেও, তদন্তকারীরা তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নাকচ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজটিতে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর মধ্যে প্রায় ১০০ জন ইতোমধ্যে আইনি উদ্যোগে সায় দিয়েছেন। মামলাটি পরিচালনার জন্য যাত্রীদের মধ্য থেকে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। হামলাকারীকে পরাস্ত করা ব্যক্তিদের অন্যতম এবং ব্যাংক লিউমির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বারাক লিউমির প্রধান নির্বাহী জভিকা ম্যানেস এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক আইনি যোগাযোগের অভিজ্ঞতার কারণে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে রয়েছেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইসরায়েলি আইনজীবী তাল আইজেনবার্গ, ড্যানিয়েল শ্লিটার, ইতাই পার্লম্যান এবং শির মাওর। উড়োজাহাজ থেকে নামার আগেই যাত্রীরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন, যার মাধ্যমে তারা এই আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন।
যাত্রীদের কমিটি বর্তমানে আইনি প্রতিনিধি খুঁজছে। কিছু যাত্রীর অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকায় তারা ইসরায়েল ও ইউএইর বাইরে অন্য সরকারের বিরুদ্ধেও মামলা করতে পারেন। এ ছাড়া বাকি যাত্রীরাও পরবর্তী সময়ে এতে যুক্ত হতে পারেন অথবা ব্যক্তিগতভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
আইনি বিশেষজ্ঞদের বরাতে হিব্রু সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক যাত্রী প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। ১৭৪ জন যাত্রীর সবাই এই অর্থ পেলে আইনি ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বাদে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ৪৩.৫ মিলিয়ন ডলার।
ফ্লাইট চলাকালে কোনো ক্ষতি, আঘাত বা মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকারী আন্তর্জাতিক চুক্তি 'মন্ট্রিল কনভেনশন'-এর আওতায় যাত্রীরা উড়োজাহাজ সংস্থাটির বিরুদ্ধে এই মামলা করতে পারবেন। ইসরায়েল ও ইউএই উভয় দেশই এ কনভেনশনের অংশীদার।
২০২০ সালে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আব্রাহাম চুক্তিতেও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ে বিধান রয়েছে।
