সিজেপির বিক্ষোভের সমর্থনে সংহতি সমাবেশ থেকে আটক অভিনেতা ইমরান খান
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) ঘোষিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভের সমর্থনে আয়োজিত সংহতি সমাবেশ থেকে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ।
অন্যদিকে, রবিবারের (১১ অক্টোবর) মধ্যে দলটির আটক নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। ভারতের সংবাদমাধ্যম 'হিন্দুস্তান টাইমস'-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সিজেপির বিক্ষোভের সমর্থনে আন্দোলনকারীরা মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে জড়ো হয়েছিলেন। সেখান থেকেই অভিনেতা ইমরান খানকে আটক করে পুলিশ।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য আয়োজকরা কোনো পূর্বানুমতি নেননি। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মুম্বাইয়ে কেবল 'আজাদ ময়দানে' বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি রয়েছে।
তবে পুলিশের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা অনুমতির জন্য পুলিশকে ইমেইল পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।
এদিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রনকাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
ভোটার তালিকা সংশোধনে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল দলটি। যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং র্যালি বন্ধ করতে দিল্লির বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনসহ ব্যারিকেড গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যম ও রাজপথের এই উত্তাল পরিস্থিতিতে জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী রবিবারের মধ্যে আটক সিজেপি নেতাদের মুক্তি না দেওয়া হলে তিনি অনশন শুরু করবেন।
দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক হওয়ার পর সিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজিনক্যা শিন্দে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আগে থেকেই ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে তার সমর্থকদের অজিনক্যা শিন্দের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের যাবতীয় কার্যক্রম ও আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
