মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ফের ১০১ ডলার ছাড়াল
উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার (১ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি) বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছায়।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে সংঘাত অষ্টম মাসে পড়ার পর অক্টোবর মাসে এই পথে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে হুমকি বেড়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো তেল রপ্তানি বাড়ানোর মধ্যেই গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে উপসাগর থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়লেও পণ্য ও ক্রুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।
সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে বুধবার জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সংস্থা।
আগে এ ধরনের হামলার কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি কমে যেত। তবে এবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানোর বিকল্প পথ না থাকায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন এএনজেড ব্যাংকের সিনিয়র পণ্যবাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইনস।
বৃহস্পতিবার এক নোটে তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তেলের মজুত ছাড়ের পরিকল্পনায় শুরুতে নির্ধারিত ৪০ কোটি ব্যারেলের মজুতই ব্যবহার করা হতে পারে। অর্থাৎ কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল ছাড়ার সম্ভাবনা কম।'
হাইনস বলেন, 'কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়লে সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। তবে এতে নতুন করে তেল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হয় না।'
এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ব্যবহারকারী ও উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। এটি তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
